ইউনুস সরকার অতীত। দু'বছর পর বাংলাদশে ঘটা করে পয়লা বৈশাখ উদযাপনের তোড়জোড় চলছে। বিগত সরকারের আমলে কট্টরপন্থীদের চাপে বদলে গিয়েছিল 'মঙ্গলযাত্রা' নামটি। কট্টরপন্থীদের পরামর্শ 'মঙ্গল' শব্দটিকে বদলে 'আনন্দ' করা হয়। যদিও দু'টিই বিশুদ্ধ বাংলা শব্দ। এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদল করায় ইউনুস সরকারকে তোপ দাগলেন তারেক রহমান সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
এদিন নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “আমাদের কোনও এলার্জি নেই যে ‘মঙ্গল’ দিলে আমাদের ক্ষতি হবে বা ‘আনন্দ’ দিলে আমাদের লাভ হবে।” মন্ত্রী বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে আনন্দ শোভাযাত্রা করার ‘প্রয়োজন ছিল না’। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের নিতাই বলেন, “এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায়, চিরায়ত ধারায় পয়লা বৈশাখ উদযাপিত হবে।” এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় আনন্দ ও মঙ্গলের এই বিতর্কটা অনর্থক।”
বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপনের কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সভায় জানানো হয়, নববর্ষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা আকাডেমি ঘুরে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হবে। নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। সভায় আরও জানানো হয়, এদিন বিকেল ৫টার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে, তবে বের হওয়া যাবে। ডঃ মহম্মদ শহিদুললা প্রণীত ক্যালেন্ডার অনুসারে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশে নববর্ষ পালিত হয়। নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনও যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলি চৌধুরী সিনেট ভবনে নববর্ষ প্রস্তুতির সভা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বলেন, “এবার যেন আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে আমরা বর্ষবরণ করতে পারি, তা নিয়ে কথা বলেছি।” এবারের আয়োজনটি কি নামে হবে, জানতে চাইলে চারুকলার ডিন বলেন, “এবারও আনন্দ শোভাযাত্রা নামেই আয়োজনের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। কেন আনন্দ শোভাযাত্রা, তা তো গত বছরই পরিষ্কার করা হয়েছে।
“পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে প্রথম যে শোভাযাত্রাটি হয়েছিল, তার নাম ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ই ছিল। সেটি পরে কী কারণে যেন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হয়ে যায়। আমরা আগের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখছি।” এর আগে সোমবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে বর্ষবরণের প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হয়। এবছর নববর্ষের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
গত শতকের আশির দশকে সামরিক শাসনের অর্গল ভাঙার আহ্বানে পয়লা বৈশাখে চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল; সেটিই পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ নেয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এ কর্মসূচি। পয়লা বৈশাখের সকালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হত মঙ্গল শোভাযাত্রা। নানা সাজে বিভিন্ন বয়সি মানুষ তাতে অংশ নিতেন। কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা করে আসছিল। আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই বিরোধিতা আরও জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।
