পরিবর্তনের বাংলাদেশে এবার একই সারিতে মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীরা! নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির ফোয়ারা ছোটাতে গিয়ে এবার 'বেলাগাম' বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের শহিদ ও যোদ্ধা পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে তারেকের আশ্বাস, "আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রকের আওতায় একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে।'' ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ঘোষণা করেছেন। সভায় ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের দাবি, ''একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতেও আমাদের শোক সমাবেশ ও শোকগাথাই লিখতে হবে। তাই আর শোক সমাবেশ নয়, আসুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনা করি।'' তাঁর আরও বক্তব্য, ''দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহিদ এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডকে এক কথায় গণহত্যা বলা যায়।''
তারেকের স্ত্রী জুবাইদাকে জুলাই শহিদের ছবি দেখাচ্ছেন মা।
এদিনের অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে ছবি দেখান জুলাই আন্দোলনে শহিদের মা। তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। এর আগে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তারেকের আরও দাবি, ''জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা শহিদ হয়েছেন এবং যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। যেমনভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালে জুলাই যোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন। আমরা হারানো স্বজনকে ফিরিয়ে দিতে পারব না, কিন্তু তাদের পরিবারের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অবশ্যই পালন করব।'' তারেকের এই ঘোষণায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। কীভাবে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে একই সারিতে জুলাই আন্দোলনকারীদের বসানো হচ্ছে? এই প্রেক্ষিত কি কখনও তুলনীয়? ওয়াকিবহাল মহলের মত, আসলে হাসিনাহীন বাংলাদেশে ফের ক্ষমতা দখল করতে মরিয়া খালেদা জিয়ার দল।
