প্রায় দেড় বছর পর যেন মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ শাহবুদ্দিন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের পূর্ববর্তী প্রশাসন মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) অন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। বলেন, “ইউনুসের সমস্ত কর্মকাণ্ড বেআইনি ছিল।” একইসঙ্গে কীভাবে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা তাঁকে অপসারণের ষড়যন্ত্র করেছিলেন, সেই কথাও তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘সময়ের কণ্ঠ’কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে শাহবুদ্দিন বলেন, “ইউনুস সরকার আমাকে অপসারণের জন্য বিভিন্ন রকম চেষ্টা করেছিলেন। আমার দু’টি বিদেশ সফর বাতিল করে দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তিনি আমেরিকার সঙ্গে যে শুল্কচুক্তি করেছিলেন, সেটির বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।” ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই জ্বলছিল বাংলাদেশ। সেই সময়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট। বলেন, “২০২৪ সালের ২২ অস্টোবর একদল দুষ্কৃতী বঙ্গভবন ঘেরাও করেছিল। তাদের দাবি ছিল, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আমাকে সরাতে হবে। ওই রাতে দুষ্কৃতীদের আচরণে আমি কেঁপে উঠেছিলাম।” ইউনুস সরকার যখন তাঁকে অপসারণ করতে সব রকম চেষ্টা করছিল, সেই সময়ে শাহবুদ্দিনের পাশে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি)। তাঁর কথায়, “বিএনপির একজন উচ্চপদস্থ নেতা আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে বিএনপি আমার সমর্থনে রয়েছে। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান। তাঁরা কোনও অসাংবিধানিক উপায়ে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের পক্ষে নই।”
“ইউনুস সরকার আমাকে অপসারণের জন্য বিভিন্ন রকম চেষ্টা করেছিলেন। আমার দু’টি বিদেশ সফর বাতিল করে দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তিনি আমেরিকার সঙ্গে যে শুল্কচুক্তি করেছিলেন, সেটির বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।”
নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে আমেরিকার সঙ্গে শুক্লচুক্তি করে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে শাহবুদ্দিন বলেন, “আমাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য একটি দেশের চুক্তি হচ্ছে, সেথানে আমি কিছুই জানি না। এর আগের সরকারগুলি প্রেসিডেন্টকে সমস্ত কিছু জানাত। প্রেসিডেন্টকে জানানো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু ইউনুস তা করেননি।” এরপরই বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেন শাহবুদ্দিন। তিনি বলেন, “তারেক অত্যন্ত আন্তরিক মানুষ। আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো।” উল্লেখ্য, হাসিনা সরকারের আমলে শাহবুদ্দিন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট পদে বসেছিলেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে।
