বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেই সেনাবাহিনীর রাশ শক্ত হাতে ধরলেন তারেক রহমান। প্রশাসনিক দুর্বলতার বিন্দুমাত্র সুযোগে যাতে সেনা অভ্যুত্থানের মতো কোনও বিরূপ ঘটনা সংঘটিত হতে না পারে, তার জন্য কার্যত সামরিক বাহিনীর খোলনলচে বদলে দিলেন তিনি। দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকায় ফেরানো হল। মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়েছে মহম্মদ হাফিজুর রহমান নামে ওই আধিকারিককে। তবে এসবের মাঝে শেখ হাসিনা জমানায় নিযুক্ত এবং হাসিনার আত্মীয় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকেই পদে বহাল রেখেছেন তারেক। এর নেপথ্যে ভিন্ন সমীকরণ দেখছে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ।
বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান।
রবিবার ঢাকায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে সেনায় রদবদলের খবর সামনে আসার পর থেকে সকলের নজর ছিল ওয়াকার-উজ-জামানের দিকেই। সেনাপ্রধান পদ থেকে তাঁকে সরানো হচ্ছে নাকি বহাল রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে। শেষমেশ অবশ্য ওয়াকার-উজ-জামানকে স্বপদে বহালই রাখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের পরিচয় ঘাঁটলে জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিসতুতো বোনের জামাই হলেন ওয়াকার-উজ-জামান। কেরিয়ার তাঁর ঝকঝকে। বিদেশ থেকে একাধিক ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে সেনায় যোগ দেন। ধাপে ধাপে বিভিন্ন দায়িত্ব ও পদ সামলে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা নতুন করে ক্ষমতায় ফেরার পর ওয়াকার-উজ-জামানকে সেনাপ্রধানের পদে বসান।
বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের পরিচয় ঘাঁটলে জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিসতুতো বোনের জামাই হলেন ওয়াকার-উজ-জামান। কেরিয়ার তাঁর ঝকঝকে। বিদেশ থেকে একাধিক ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে সেনায় যোগ দেন। ধাপে ধাপে বিভিন্ন দায়িত্ব ও পদ সামলে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা নতুন করে ক্ষমতায় ফেরার পর ওয়াকার-উজ-জামানকে সেনাপ্রধানের পদে বসান।
কয়েকমাস পর বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের জেরে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। সেসময় অবশ্য সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান কিছুটা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। শোনা যায়, জনতার চাপের মুখে হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন তিনিই। নইলে সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কা ছিল। এছাড়া গণবিক্ষোভ দমনে গুলি চালনা নিয়েও হাসিনার উপর চাপ তৈরি করেছিলেন। আত্মীয় তথা দেশের সেনাপ্রধানের কথা মেনে এরপরই শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে সে বছরের আগস্টে সোজা দিল্লিতে চলে আসেন। আপাতত তিনি ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। সেসময় ছাত্র আন্দোলন দমনে সেনার গুলিচালনা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক বৈঠকে ওয়াকার-উজ-জামান দাবি করেছিলেন, তাঁরা আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর কোনও গুলি চালাননি। তা বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
এসবের পর বাংলাদেশে পট পরিবর্তন হয়। আন্দোলনকারী ছাত্র সংগঠনের অনুরোধে প্যারিস থেকে এসে হাসিনাহীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে বসেন নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুস। তখনও সেনাপ্রধান ছিলেন ওয়াকার-উজ-জামান। এরপর বাংলাদেশে সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তারপরও অবশ্য পদে বহাল রইলেন হাসিনা আমলে নিযুক্ত সেনাপ্রধানই।
