বরের পরনে বাহারি পাঞ্জাবি, কনের হাতে তখনও মেহেন্দির লাল রং, শরীরে গাঢ় খয়েরি রঙের বেনারসি জড়ানো। এই সাজেই নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিলেন মার্জিয়া-সাব্বির। কিন্তু নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস! নববধূ মার্জিয়া আক্তার স্বামী আহাদুর রহমান সাব্বিরের হাত ধরে বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হলেও শেষপর্যন্ত আর নতুন ঘরে পৌঁছনো হলো না। বিবাহিত জীবনও শুরু হল না তাঁদের। পথ দুর্ঘটনায় ঝরে গেল দুটি প্রাণ। রাস্তায় পড়ে থাকা নিথর শরীর দুটোয় তখনও বিয়ের সাজ টাটকা। এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা বাগেরহাটবাসী।
ঘটনা বৃহস্পতিবারের। রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে ওইদিন বিকেলে বরযাত্রী বোঝাই মাইক্রোবাসের সঙ্গে নৌবাহিনীর বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার পর সকলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা নবদম্পতি-সহ ১৪ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে স্ট্রেচারে করে তাঁদের মৃতদেহ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সোনালি পাড়ের বিয়ের ওড়না দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় নববধূর দেহ। সে দৃশ্য দেখে চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি কেউ।
মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ে হয়েছিল বৃহস্পতিবার।বাড়ি ফিরল তাঁদের নিথর দেহ।
বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শ্যালাবুনিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরপক্ষের সদস্যরা রাতে কনের বাড়িতে অবস্থান করেন। বৃহস্পতিবার সেখান থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে তারা মোংলায় বরপক্ষের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে মাইক্রোবাসটির সঙ্গে নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনা নিয়ে কাটাখালি হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহমেদ জানান, ''মাইক্রোবাসটিতে চালক-সহ ১৫ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন মারা গিয়েছেন এবং একজন আহত অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।'' পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটিতে বরপক্ষের ১১ জন, কনেপক্ষের ৩ জন এবং চালক-সহ মোট ১৫ জন যাত্রী ছিলেন। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী।
