বাংলাদেশের সংসদের একটি ছবি শেয়ার করে বিতর্ক উসকে দিলেন তসলিমা নাসরিন। 'লজ্জা'র স্রষ্টা মনে করালেন সংসদে মুখ লুকিয়ে রাখার জায়গা নয়। বাংলাদেশের সংসদে নারী সাংসদদের বোরখা, হিজাব ও নিকাব পরা নিয়ে সম্প্রতি তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্য করতে দেখা গেল তসলিমাকে।
ফেসবুকে এই বিষয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন লেখিকা। তাঁকে লিখতে দেখা গিয়েছে, 'সংসদ এমন একটি জায়গা, যেখানে জনগণের প্রতিনিধিরা জনগণের সামনে দৃশ্যমান থাকবেন। মুখ লুকিয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ধারণার মধ্যেই একটি বৈপরীত্য আছে। মুখ মানুষের পরিচয়, ব্যক্তিত্ব ও উপস্থিতির প্রতীক। যে মতাদর্শ নারীর মুখকেই আড়াল করতে চায়, সে মতাদর্শ নারীর ব্যক্তিত্বকেও আড়াল করতে চায়। এই ছবি আমার কাছে নারী-স্বাধীনতার নয়, নারী অদৃশ্যকরণের ছবি, নারীর অবয়বহীনতার ছবি, নারীর পরিচয়হীনতার ছবি। এখানে শিক্ষিত নারী, নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সক্রিয় নাগরিককে দেখা যাচ্ছে না; দেখা যাচ্ছে এমন এক নারীবিদ্বেষী ধর্মের প্রভাব, যে ধর্ম নারীর মুখকে সমস্যা বলে মনে করে। শতাব্দীর পর শতাব্দী সংগ্রাম করে নারীরা ঘর থেকে বের হওয়ার, শিক্ষা পাওয়ার, কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার, রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার, নিজের পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার অধিকার অর্জন করেছে। কিন্তু রাজনীতিতে এসেও যদি নারীকে নিজের মুখ লুকিয়ে রাখতে হয়, তবে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, নারী কি সত্যিই মুক্ত, নাকি তারা এখনও শৃঙ্খলিত, এখনও পুরুষের যৌনদাসী? সংসদে মানুষের যুক্তি, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব হওয়ার কথা। সেখানে অবয়বহীনতার নয়, অবয়বের অর্থাৎ পরিচয়ের উপস্থিতি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
উল্লেখ্য, বিতর্কের সূত্রপাত বাজেট অধিবেশনের দিন। কুমিল্লা-৬ আসনের সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ''আমাদের বোনেরা এসেছেন এমপি হয়ে। সবাই মেধাবী। কিন্তু বুঝলাম না তো আপনারা কারা? ভেতরে কে?'' এই মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র শোরগোল শুরু হয়। বিতর্কের ঢেউ পৌঁছেছে সংসদের বাইরেও।
