ডাক্তারি পড়া শেষই হয়নি। তিনিই বসেছিলেন ডাক্তার সেজে! অসাধু ব্লাড ব্যাঙ্ক নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে স্বাস্থ্যভবনের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বাস্থ্যভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছিল সেই গুণধর ডাক্তারি পড়ুয়াদের। যারা ব্ল্যাড ব্যাঙ্কের তরফে রক্তদান শিবিরে গিয়ে নিজেদের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে সই করেছেন। তদন্তে দেখা গিয়েছে অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কের হয়ে রক্তদান শিবিরে বসে থাকতেন কিছু এমবিবিএস পড়ুয়া। তার মধ্যে রয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালের দ্বিতীয় বর্ষের ডাক্তারি পড়ুয়াও। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য ভবনের ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের আধিকারিকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অভিযুক্তরা। ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দিতে হয়েছে মুচলেখা। "ডাক্তারি পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এমন কাজ করব না।"
ঘটনার শুরু গত ২৩ জুন। দক্ষিণ কলকাতার পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাংকের রক্তের স্টক মেলাতে গিয়ে প্রথম নজরে আসে গরমিল। দেখা যায়, শুধুমাত্র চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভিনরাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে প্রায় ৬ কোটি টাকার লোহিত রক্ত কণিকা এবং প্লাজমা বিক্রি করেছে তারা। ৭ হাজার ৮০০ লিটার লোহিত রক্ত কণিকা বিক্রি করেছে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকায়।
ঘটনার শুরু গত ২৩ জুন। দক্ষিণ কলকাতার পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাংকের রক্তের স্টক মেলাতে গিয়ে প্রথম নজরে আসে গরমিল। দেখা যায়, শুধুমাত্র চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভিনরাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে প্রায় ৬ কোটি টাকার লোহিত রক্ত কণিকা এবং প্লাজমা বিক্রি করেছে তারা। ৭ হাজার ৮০০ লিটার লোহিত রক্ত কণিকা বিক্রি করেছে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকায়। বছরভর বাংলাজুড়ে হয় একাধিক রক্তদান শিবির। সেইসব রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করে ব্লাডব্যাঙ্কগুলো। নিয়ম অনুযায়ী ভীনরাজ্যে রক্ত পাঠাতে হলে ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল, স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের অনুমতি লাগে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও অনুমতিই নেয়নি অভিযুক্ত ব্লাডব্যাঙ্ক। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে গিয়ে যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক নিয়েও একাধিক গরমিল নজরে আসে। দেখা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প থেকে সংগৃহীত রক্ত অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কও মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেছে উত্তরপ্রদেশ-বিহারে। যোধপুর পার্কের এই ব্লাড ব্যাঙ্কের যাবতীয় নথি বাজেয়াপ্ত করেছে স্বাস্থ্য ভবন।
দক্ষিণ কলকাতার অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও রক্তদান শিবির থেকে রক্ত তারা সংগ্রহ করতে পারবেন না তারা। কত টাকার রক্ত বিক্রি করেছে অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক? বিহার, উত্তর প্রদেশের ব্লাড ব্যাঙ্ককে দু'কোটি টাকার প্লাজমা বিক্রি করেছে তারা। মোট ৩২৬২ ইউনিট লোহিত রক্ত কণিকা বিক্রি করেছে। এছাড়াও ৫ টি বহুজাতিক সংস্থাকে ৩ হাজার লিটার প্লাজমা বিক্রি করেছে গত ছ'মাসে। তার বাজারদর ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা।
