বদলে গিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বিদায় নিয়েছেন মহম্মদ ইউনুস, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। সেই সঙ্গে ধীর চালে হলেও বদলে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক। নতুন খবর---ভ্রমণ ভিসা-সহ অন্যান্য শ্রেণির ভিসা প্রক্রিয়া শীঘ্রই স্বাভাবিক হতে চলেছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে উভয় দেশ ভিসা প্রক্রিয়ায় একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। যার ফলে ভারতে যাওয়ার জন্য কেবল মেডিক্যাল ভিসা ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছিল এতদিন। এবার গোটা ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে চলছে বলেই জানিয়েছেন সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস।
বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, ভ্রমণ ভিসা-সহ সব ধরনের ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ভিসার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ভারত। এর ফলে দুই দেশের নাগরিকরা সমস্যায় পড়েন। এবার সব রকম ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। সিলেট দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দুই দেশের জনগণই এই সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি করতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।
অনিরুদ্ধ দাস বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের চিন্তা চেতনা এক। দুই দেশ তাদের সংস্কৃতি অতীতকাল থেকে ধারণ করে আসছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে।” আরও বলেন, “আমাদের উচিত ভৌগোলিক-সাংস্কৃতিক নৈকট্য, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতের আকাঙ্খাকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন সুযোগে রূপান্তর করা।” মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন সহকারী হাইকমিশনার। তাঁর মতে, দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার করার জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলি ফলপ্রসু করতে হবে।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ভিসার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ভারত।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। এর পর ফ্রান্স থেকে ফিরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুস। ইউনুস ঝুঁকে পড়েন পাকিস্তানের দিকে। সেভেন সিস্টার নিয়ে মনগড়া কথা বলে চিনের মন জয়ের চেষ্টা চালান। জুলাই আন্দোলনের কিছু ছাত্রনেতাও সেভেন সিস্টার দখলের হুমকি দেয়। স্বভাবতই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে।
ইউনুস শাসনের দীর্ঘ ১৭ মাসের অস্থিরতা শেষে বাংলাদেশের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্থায়ী সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। তাৎপর্যপূর্ণভাবে শপথের দিনেই ভারতে আসার জন্য খালেদা পুত্রকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দূত’ ওম বিড়লা। শুধু তাই নয়, তারেকের সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেছেন তিনি। ফলে অতীত ভুলে নতুন করে ভারত-বাংলাদেশ ফের কাছাকাছি! মনে করা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের দিনেই বাংলাদেশে গম রপ্তানির দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভারত। যা ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
