বাংলাদেশে পট পরিবর্তন নানা দিক থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর মাঝের ১৮ মাস অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে ছিলেন বাংলাদেশবাসী। তার প্রধান উপদেষ্টা পদে ছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুস। সেই টালমাটাল সময়ে বিদেশ থেকে কার্যত ইউনুসকে উড়িয়ে এনে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নেপথ্যে ছিলেন আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের একটা বিরাট অংশ। আর তাই প্রথমদিকে ছাত্রনেতাদের বেশ কয়েকজন স্থান পেয়েছিলেন ইউনুসের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের উপদেষ্টা পদে। কিন্তু এবার নবনির্বাচিত সরকার দেশের শাসনক্ষমতার ভার নিলে এই অন্তর্বর্তী প্রশাসন সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয়ে যাবে। পদ খোয়াবেন ইউনুসও। তারপর তাঁর ভবিষ্যৎ কী? এনিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক কেরিয়ার নাকি শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে কাজ, কোন পথ খোলা তাঁর সামনে?
মেয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। ফাইল ছবি
বিএনপি শাসনাধীন বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনুসের ভবিষ্যৎ কী, তা বুঝতে গেলে তাঁর কেরিয়ারের দিকে একবার চোখ রাখতে হবে। সেই ষাটের দশক থেকে ইউনুস বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষাদান ও গবেষণার কাজে যুক্ত। পরবর্তী সময়ে বিদেশের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পদ সামলেছেন তিনি। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইউনুসের বিশেষ ক্ষুদ্র ঋণের পরিকল্পনা ২০০৬ সালের নোবেল পুরস্কার পায়। তারপর আন্তর্জাতিক মহলে ইউনুসের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রিত অধ্যাপক হিসেবে ডাক পেতে থাকেন।
২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে বসার আগে পর্যন্ত ইউনুস মালয়েশিয়ার আলবুখারি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে ছিলেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার একটি বিজনেস স্কুলের বড় প্রশাসনিক পদ রয়েছে তাঁর।
২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে বসার আগে পর্যন্ত ইউনুস মালয়েশিয়ার আলবুখারি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে ছিলেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার একটি বিজনেস স্কুলের বড় প্রশাসনিক পদ রয়েছে তাঁর। তবে কি আবার শিক্ষাক্ষেত্রেই ফিরে যাবেন ইউনুস? তারেক রহমানের উপদেষ্টা তথা বিএনপির দীর্ঘকালের নেতা হুমায়ুন কবীর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ''তারেক রহমান সাহেব বিশ্বাস করেন, দেশটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সর্বসেরাদের পরামর্শ অনুসারে। সেভাবেই তিনি প্রশাসন সাজিয়ে তুলবেন। তবে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনে কার কী ভূমিকা হবে, তা ঠিক হয়নি। যাঁরা দেশগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন বলে তিনি মনে করেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সব স্থির করা হবে। স্বাভাবিক নীতি অনুযায়ী, সেই আলোচনায় দেশের একজন বিশিষ্ট মানুষ হিসেবে প্রফেসর মহম্মদ ইউনুসও থাকতে পারেন।''
তারেক রহমানের উপদেষ্টা তথা বিএনপির দীর্ঘকালের নেতা হুমায়ুন কবীর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ''তারেক রহমান সাহেব বিশ্বাস করেন, দেশটা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সর্বসেরাদের পরামর্শ অনুসারে। সেভাবেই তিনি প্রশাসন সাজিয়ে তুলবেন। তবে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনে কার কী ভূমিকা হবে, তা ঠিক হয়নি। যাঁরা দেশগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন বলে তিনি মনে করেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সব স্থির করা হবে। স্বাভাবিক নীতি অনুযায়ী, সেই আলোচনায় দেশের একজন বিশিষ্ট মানুষ হিসেবে প্রফেসর মহম্মদ ইউনুসও থাকতে পারেন।''
হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইউনুস। ফাইল ছবি
হুমায়ুন কবীর এ প্রসঙ্গে জল্পনা আরও উসকে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ''রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়। তারেক রহমান সাহেব অন্দর এবং বাইরে থেকেই দেশকে যোগ্য নেতৃত্বের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে তৎপর। এই ময়দানে তিনি সেরাদের নিয়ে টিম গড়বেন। দেশের স্বার্থই অগ্রাধিকার। যদি মনে করেন যে কেউ এই কাজে দক্ষ, তাহলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দায়িত্বে নিয়ে আসবেন।'' তবে বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদক ডেভিড বার্গম্যানের মত, বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনে ইউনুসকে কাজে লাগাবে। তাঁর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং পরিচিতির ভিত্তিতেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের অন্দরে ইউনুস যতই সমালোচিত হোন, সামগ্রিকভাবে তিনি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিত্ব। পাশাপাশি ১৮ মাস ধরে দেশের প্রশাসন চালানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে। সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ইউনুসের গুরুত্ব ভালোই। তাই তারেক তাঁকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে নিয়ে আসতে পারেন। সম্ভবত ইউনুসের ইচ্ছে এবং লক্ষ্যও তেমনই - দেশের রাষ্ট্রপতি পদ। তবে সবটাই বলবে সময়।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ভাবী রাষ্ট্রপতি?
যদিও বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে অন্য কথা। রাষ্ট্রপতি পদে নাকি এগিয়ে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির। রাষ্ট্রপতি পদে তাঁকে মনোনয়নের বিষয়ে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের জন্য পরিচিত মির্জা ফখরুল বর্তমানে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার গ্রহণযোগ্যতা ও আপসহীন ভাবমূর্তি রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদের জন্য তাঁকে যোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
