বিজেপির পোস্টার, ফেস্টুন লাগানোর নামে উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক ঢোকানো হচ্ছে এ রাজ্যে? বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে ভিনরাজ্যের লোক এনে? আরও একবার সেই প্রশ্ন উসকে গেল মালদহের ঘটনায়। মালদহে পাকড়াও হল উত্তরপ্রদেশের দুই বিজেপি কর্মী। পোস্টার লাগানোর জন্য সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে তারা মালদহে এসেছিলেন বলে জানানো হয়েছে! ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ঘটনাটি মালদহের মানিকচকের শেখপুরা এলাকার। জানা গিয়েছে, ২ অপরিচিত যুবককে ওই এলাকায় শুক্রবার রাতে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানানো হয়, তারা দু'জনেই যোগীরাজ্যের বাসিন্দা। দলের কর্মসূচিতে পোস্টার লাগানোর জন্য তারা সেখানে এসেছিল! বিষয় দেখেশুনে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। খবর দেওয়া হয় মানিকচক থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দু'জনকে আটক করে নিয়ে যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বাংলার পরিবেশ অশান্ত করতে যোগি আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক ঢোকাচ্ছে বিজেপি।
থানার সামনে বিক্ষোভ বিজেপি কর্মীদের। নিজস্ব চিত্র
তৃণমূলের জেলার মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু বলেন, "মানিকচকে কি বিজেপির ফেস্টুন, ব্যানার লাগানোর জন্য নেতা-কর্মী নেই? দাঙ্গা বাধানোর উদ্দেশ্যেই যোগী রাজ্য থেকে গুন্ডাবাহিনী আনছে বিজেপি। স্থানীয় বাসিন্দারা আজকে দু'জনকে ধরে পুলিশকে দিয়েছে। তদন্ত হলেই রহস্য বেরিয়ে যাবে। পুলিশ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করছে।" দিনের আলোয় পোস্টার না লাগিয়ে গভীর রাতে কেন? এলাকার বিজেপির কোনও স্থানীয় কর্মী-সমর্থক কি নেই? এমন একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। গোটা ঘটনা ঘিরে মালদহের রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ মিশ্র বলেন, "সেন্ট্রাল এজেন্সির মাধ্যমে এই পোস্টার লাগানো হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই দুই যুবক বিজেপির কার্যকর্তা। গোটা ভারতবর্ষের যে কোনও প্রান্তে দলের কার্যকর্তারা যাবেন, পোস্টার লাগাবেন। এটা সংবিধান স্বীকৃত। অথচ মানিকচকের শেখপুরায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওই দুই কার্যকর্তাকে ধরে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। পোস্টার, ব্যানার লুঠ করেছে। আমরাও পুলিশের কাছে তৃণমূলের ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি।" শনিবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানার বাইরে বিক্ষোভও দেখান বিজেপি কর্মীরা।
বিজেপির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, "তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিজেপির কর্মীদের পোস্টার, ফেস্টুন-ব্যানার লাগাতে দিচ্ছে না। মারধর করছে। পোস্টার লুট করছে। অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ ধরছে না।" তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের মুখে অশান্তি ছড়াতে যোগী রাজ্য থেকে লোক ঢোকাচ্ছে বিজেপি। মালদহে সেটা ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিজেপি নেতৃত্ব এখন উলটোপালটা বলছেন। জানা গিয়েছে, পরে ওই দু'জন জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। তবে ঘটনা নিয়ে সতর্ক তৃণমূল কংগ্রেস।
