সম্প্রতি আমিষ-নিরামিষ বিতর্কে জড়িয়েছে ভারতীয় রেলও। দ্রুতগতির, আরামদায়ক, সাধ্যের মধ্যে যাত্রীদের জন্য নতুন ট্রেন ঘিরে সেই বিতর্কের জল গড়িয়েছে। বন্দে ভারত স্লিপারে যাত্রীদের মেনুতে নেই আমিষ পদ, সেটাই ছিল মূল আপত্তির কারণ। বিশেষত ভোজনরসিক বঙ্গবাসী আরামদায়ক ট্রেন সফরে আমিষ কিছু খেতে পারবেন না, তা নিঃসন্দেহে খেদের বিষয়। তাই বন্দে ভারত স্লিপার চালু রেলের বড় সাফল্য বলে দাবি করা হলেও যাত্রী পরিষেবায় কোথাও খামতি থেকে যাচ্ছিল। এবার তা মিটল। যাত্রীদের রসনাতৃপ্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে, বিশেষত বাঙালির কথা মাথায় রেখে চালু হয়ে গেল আমিষ পদ। হাওড়া-কামাক্ষ্যা বন্দে ভারত স্লিপারে এবার থেকে মিলবে মাংস, মিষ্টিও।
দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার দেশের রেল বিপ্লবের এক স্মরণীয় অধ্যায় বলে চিহ্নিত করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিণী বৈষ্ণব। তাঁর বক্তব্য, এই বিশ্বমানের ট্রেন শুধু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিক থেকে একটি মাইলফলক নয়, বরং আকাশচুম্বী সাফল্য। কারণ, এর প্রথম যাত্রা থেকেই ১০০ শতাংশ যাত্রীর রেকর্ড রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের দূরদর্শী ভাবনা দূরপাল্লার ভ্রমণকে আমূল বদলে দিয়েছে। এই ট্রেনটিকে 'পশ্চিমবঙ্গের জন্য আশীর্বাদ' হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। তবে সেইসঙ্গে এই দীর্ঘ ট্রেন যাত্রায় রসনাতৃপ্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সেটাই সবচেয়ে বড় আপডেট।
খাবার যে বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র, তা উপলব্ধি করে ভারতীয় রেল এমন একটি মেনু তৈরি করেছে যা ঘরের তৈরি খাবারের স্বাদ মনে করিয়ে দেয়। বন্দে ভারত স্লিপারে এতদিন সবরকম নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও, আমিষ পদের অভাব ছিল। এবার নতুন করে আমিষ পদ যুক্ত হয়েছে। সেসব বেশ জনপ্রিয়। জানা গিয়েছে, ট্রেন সফরে মেন কোর্সে পাওয়া যাবে সুগন্ধি কড়াইশুঁটির পোলাও, মুচমুচে ভাজি, ঐতিহ্যবাহী ভাজা মুগ ডাল। আর বাঙালির পছন্দের নরম তুলতুলে পরোটার সঙ্গে থাকবে ঝাল-ঝাল চিকেন কড়াই। নিরামিষাশীদের জন্য সুস্বাদু ছানার ডালনা। শেষ পাতে মিষ্টিমুখও করতে পারবেন। ট্রেনে পাওয়া যাবে ক্ষীর কদম। রেলমন্ত্রীর দাবি, হাওড়া-কামাক্ষ্যা বন্দে ভারত স্লিপারের মেনুতে আমিষ পদ যুক্ত করার এই উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে ভারতীয় রেল পশ্চিমবঙ্গবাসীর খাদ্যভ্যাসকে কতটা গুরুত্ব দেয়।
জানা গিয়েছে, ট্রেন সফরে মেন কোর্সে পাওয়া যাবে সুগন্ধি কড়াইশুঁটির পোলাও, মুচমুচে ভাজি, ঐতিহ্যবাহী ভাজা মুগ ডাল। আর বাঙালির পছন্দের নরম তুলতুলে পরোটার সঙ্গে থাকবে ঝাল-ঝাল চিকেন কড়াই। নিরামিষাশীদের জন্য সুস্বাদু ছানার ডালনা। শেষ পাতে মিষ্টিমুখও করতে পারবেন। ট্রেনে পাওয়া যাবে ক্ষীর কদম।
বন্দে ভারত স্লিপারে আমিষ পদ।
আসলে বন্দে ভারত স্লিপারের খাবারে শুধুমাত্র নিরামিষ পদ নিয়ে গোড়া থেকে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বঙ্গে বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখেই এই ট্রেন চালু বলে মত ছিল রাজনৈতিক মহলের একাংশের। তবে নিরামিষ পদ নিয়ে আপত্তি তোলে বঙ্গবাসীই। তাঁদের হয়ে রেলমন্ত্রকের কাছে আমিষ পদ চালু করার আবেদন জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি আলাদা করে রেলমন্ত্রী অশ্বিণী বৈষ্ণবের সঙ্গে এনিয়ে কথা বলেন। রেলমন্ত্রী তাঁর আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। আর কয়েকদিনের মধ্যেই বন্দে ভারত স্লিপারে আমিষ পদ চালু হয়ে গেল। এতে স্বভাবতই খুশি ভোজনরসিক বাঙালি। আরামের পাশাপাশি স্বাদেও ভরপুর হবে এই ট্রেন সফর।
