শনিবার দুপুর। রাস্তায় ভিড় তুলনামূলক কম। স্কুটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন বৃদ্ধ। হঠাৎ গাড়ি থামায় দুই পুলিশকর্মী! মাথায় হেলমেট নেই কেন? গাড়ির কাগজ দেখান! ধেয়ে আসে একাধিক প্রশ্নের বাণ। বৃদ্ধ সামলে ওঠার আগেই, ওই দুই 'উর্দিধারী'র নজর যায়, বৃদ্ধার পরনে থাকা সোনার চেন, আংটিতে। এবার আর প্রশ্ন নয়, নরম সুরে তারা বলে, এই ভরদুপুরে সোনার গয়না কেন পরেছেন বৃদ্ধ। যে কোনও মুহূর্তে তা ছিনতাই হতে পারে। বৃদ্ধার সোনার গয়না খুলিয়ে ভরে দেন একটি সাদা কাগজের প্যাকেটে। বাড়ি ফিরে আসেন বৃদ্ধ। কিন্তু সেই প্যাকেট খুলতেই চক্ষুচড়ক গাছ! তাতে ভরা রয়েছে পাথর!
পুলিশ সেজে ভরদুপুরে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে হাওড়ার জগাছিয়ার অম্বিকা কুন্ডু বাই লেনে। শনিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটলেও, বিষয়টি সামনে আসে রবিবার। ছিনতাইয়ের 'শিকার' বৃদ্ধ ভোলানাথ চট্টোপাধ্যায় টিকে বোস রোডের বাসিন্দা। শনিবার দুপুরে বছর আটষট্টির বৃদ্ধ স্কুটি নিয়ে নিজের দরকারে বেরিয়েছিলেন।
অভিযোগ, সেই সময় দুই যুবক ভোলানাথবাবুর রাস্তা আটকায়। নিজেদেরকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বহু প্রশ্ন করতে থাকে। বৃদ্ধ জানিয়েছেন, সোনার গয়না দেখে দুই যুবক বলে নির্জন গলি দিয়ে যাচ্ছেন, যে কোনও সময় ওই সোনার চেন ও আংটি ছিনতাই হতে পারে পরেছেন কেন? এরপর দুই যুবক বৃদ্ধকে গয়না খুলতে বলে তা একটি কাগজে মুড়ে দেয়। প্যাকেট ফিরিয়ে বৃদ্ধকে সাবধানে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেয় দুই যুবক। বৃদ্ধও বাড়ি চলে আসেন। ঘরে বসে প্যাকেট খুলতেই দেখেন, সোনার বদলে তাতে রয়েছে পাথর। বৃদ্ধের অভিযোগ, পুলিশ সেজে ওই দুই যুবক দুই থেকে তিন ভরি সোনার গয়না নিয়ে পালিয়েছে।
এই ঘটনার পর ভোলানাথবাবুর কাউকে কিছু জানাতে চাননি। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে অভিযোগ জানায়। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে রবিবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেপ্তারির সংখ্যা শূন্য। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
