সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই জনসংযোগ যাত্রায় বেরিয়ে মানুষের ক্ষোভের মুখে বিজেপি বিধায়ক সুমিতা সিনহা। কাঁথি দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক তিনি। আজ রবিবার সকালে কাঁথি ৩ ব্লকের ভাজাচাউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডুমুরবেড়িয়া গ্রামে নেতা কর্মীদের নিয়ে বাইক মিছিল করেন বিজেপি বিধায়ক। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মহিলারা। এমনকী ঝাঁটা হাতে তেড়ে যান বলেও অভিযোগ। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। ঘটনায় শাসকদলের দিকেই অভিযোগ তুলেছেন সুমিতা সিনহা। তাঁর অভিযোগ, ''পরিকল্পনা করে স্থানীয় মহিলাদের দাঁড় করিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।'' যদিও এই প্রসঙ্গে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তরুণ মাইতি বলেন, ''দীর্ঘদিন এলাকার সঙ্গে যুক্ত নন বিধায়ক। এটা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ।''
বঙ্গে সংগঠন এখনও যথেষ্ট দুর্বল। বিশেষত তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ থেকে এখনও শত হস্ত দূরে গেরুয়া ব্রিগেড। ভোটের মুখে দুর্বলতা ঢাকতে এবং জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে একাধিক নয়া কর্মসূচি নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। মানুষের সমর্থন আদায়ে 'গৃহ সংকল্প অভিযান' শুরু হয়েছে। এদিন সেই কর্মসূচি করতেই ডুমুরবেড়িয়া গ্রামে যান কাঁথি দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক সুমিতা সিনহা। সেই সময় গ্রামের মানুষজন তাঁকে ঝাঁটা দেখান বলে অভিযোগ। যা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন বিজেপি বিধায়ক। ঘটনা প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, '' শান্তিপূর্ণভাবেই আমরা বাইকে করে ঘুরছিলাম। সেই সময় অন্তত ৩০ জন সংখ্যালঘু মহিলা বিক্ষোভ দেখান।'' বিধায়কের কথায়, ''পরিকল্পনা করে আগে থেকে ওই মহিলাদের এনে রাখা হয়েছিল।'' এর পিছনে শাসকদল তৃণমূল আছে বলেও দাবি সুমিতা সিনহার।
যদিও জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই সাধারণ মানুষ এই বিক্ষোভ দেখিয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। তরুণ মাইতি বলেন, ''ওনাকে (পড়ুন-বিজেপি বিধায়ক) বিধানসভা এলাকায় দেখা যায় না। মানুষের ক্ষোভ তো হবেই। সেই কারণেই এই ঘটনা।'' তাঁর কথায়, ''কেন মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সেই কারণ না খুঁজে সাম্প্রদায়িক তাস খেলছেন বিধায়ক।'' এর জবাব আগামী নির্বাচনে মানুষ দেবে বলেও হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতার।
