ভরা মরশুমে দিঘায় (Digha) সেই ভাবে দেখা মেলেনি ইলিশের। জালে বিভিন্ন মাছ উঠলেও ইলিশ হতাশ করছিল মৎস্যজীবীদের। এবার সেই খরা কাটল কিছুটা। রবিবার সকালে মৎস্যজীবীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে উঠল টন টন ইলিশ। যার ফলে বাজারে ইলিশের দাম একধাক্কায় বেশ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন মৎস্যজীবীদের একাংশ। ব্যবসায়ীদের কথায়, খুব শীঘ্রই বাজারে এই ইলিশ পৌঁছে যাবে।
দিঘা ফিসারমেন অ্যান্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, ''মরশুমের শুরুতে ইলিশ সেভাবে ছিল না বললেই চলে। তারপর মাঝে প্রায় ২৫-৩০ টন ইলিশ উঠেছিল। কিন্তু মাঝে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাছ ধরতে যেতে পারছিলেন না মৎস্যজীবীরা।''
বাঙালি মানেই ভোজন রসিক। আর এই মরশুমে সকলেই অপেক্ষায় থাকেন ইলিশের জন্য। ভোজনরসিক বাঙালির জন্য সুখবর। কিন্তু গত কয়েকবছরে সেভাবে দিঘায় ইলিশ ধরা পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে দিঘার বাজারে এল প্রায় ৩০ টনেরও বেশি ইলিশ। জানা গিয়েছে, সাইজ ও ওজন যথেষ্ট ভাল। দিঘা ফিসারমেন অ্যান্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, “মরশুমের শুরুতে ইলিশ সেভাবে ছিল না বললেই চলে। তারপর মাঝে প্রায় ২৫-৩০ টন ইলিশ উঠেছিল। কিন্তু মাঝে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাছ ধরতে যেতে পারছিলেন না মৎস্যজীবীরা। যেসব ট্রলার দিঘা মোহনায় এসেছে, তাতে প্রায় ৩০ টনের বেশি ইলিশ উঠেছে।''
তবে দাম পাইকারে বাজারে বেশ কিছুটা হলেও চড়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক কেজি ৯০০ গ্রাম ইলিশের দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিকোচ্ছে। আবার ৬০০, ৭০০ এবং ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ৯০০ টাকার নিচেও বেশ কিছু ইলিশের দাম রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ইলিশের ওজন মাত্র ৫০০, ৬০০ গ্রামের।
দিঘার মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন, বর্ষার সময় গভীর সমুদ্র থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ডিম পাড়ার জন্য নদী মোহনার মিষ্টি জলের দিকে ছুটে আসে। ইলিশ ধরার সবচেয়ে উপযুক্ত আবহাওয়া হল পুবালি হাওয়ার সঙ্গে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। গত কয়েক দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গে মেঘলা আকাশ রয়েছে। বৃষ্টিও হচ্ছে। হাওয়া অফিসও ইঙ্গিত দিয়েছে, সপ্তাহান্তে বৃষ্টি শুরু হতে পারে দক্ষিণবঙ্গে। ফলে চলতি মরসুমে ইলিশের আমদানি আরও কিছুটা বাড়তে পারে, জোগানও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে বলেই মনে করছেন মৎস্যজীবীদের একাংশ।
