সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রচারের প্রাথমিক সূচিতেই বাধা! মঙ্গলবার রামপুরহাটের (Rampurhat) জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কপ্টার ওড়ার অনুমতি দেয়নি ডিজিসিএ। এনিয়ে দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয় তৃণমূলের তরফে। নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা দেরিতে রামপুরহাটে সভায় পৌঁছন অভিষেক। আর সেখানে পৌঁছে তিলাই ময়দানের জনসভায় এনিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অভিষেক।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কড়া প্রতিক্রিয়া, ''নির্বাচন শুরু হয়নি, দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। এসআইআরের মধ্যে দিয়ে সবে ভোটের দামামা বেজেছে। তার আগে থেকে বাংলা বিরোধী জমিদারদের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমার হেলিকপ্টার সকাল ১১টায় ওড়ার অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেয়নি। আমারও ১০ গুণ জেদ। আমি মাঝে ভেবেছিলাম, গাড়িতে আসব। ৫ ঘণ্টার রাস্তা। আমি বুদ্ধি খাটিয়ে পাশের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর কপ্টার আনালাম। তারপর তাতে চড়ে এলাম। তাই ২ ঘণ্টা দেরি হলো। কিন্তু জেদ থেকে সরিনি। বলেছিলাম, যত দেরি হোক, যাবই। ধমকানি, চমকানি, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত দিয়ে আটকানো যাবে না। মাথা নত করব না।''
ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রাক্কালে মাসজুড়ে 'আবার জিতবে বাংলা' কর্মসূচিতে জেলায় জেলায় ঘুরছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, মঙ্গলবার বীরভূমে সভা-সহ একাধিক কর্মসূচি ছিল তাঁর। কথা ছিল, বেলা ১২ টায় বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে চপারে রামপুরহাট উড়ে যাবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু তাঁর কপ্টার ওড়ার অনুমতি দেয়নি। পরে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কপ্টার আনিয়ে তবে অনুমতি সাপেক্ষে বীরভূম উড়ে যান অভিষেক। দুপুর দেড়টার বদলে ৩টে ৩৬ মিনিট থেকে সভা শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, গত ২০ ডিসেম্বর নদিয়ার তাহেরপুর জনসভা করতে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে তাঁর চপার উড়তে পারেনি। মোদি দমদম বিমানবন্দর থেকেই অডিওবার্তায় তাহেরপুরবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু অভিষেক কোনও অডিওবার্তা কিংবা কর্মসূচির দিনক্ষণ পিছিয়ে দেননি। বিকল্প পথে কপ্টার জোগাড় করে তিনি দেরিতে হলেও সশরীরে প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে ঠিক পৌঁছে যান জনতার মাঝে। এটাই বিজেপি ও তৃণমূলের রাজনৈতিক ফারাক।
তিলাই ময়দানের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমেই বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দিলেন অভিষেক। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ''যত বেশি এমনটা করবে বিজেপি, তত ভোট কমবে। আমরা বলতে চাই, 'যতই করো হামলা/আবার জিতবে বাংলা'। এই সবকিছুর জবাব দিতে হবে চতুর্থবার রাজ্যের ক্ষমতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে এনে। একুশের ভোটে বীরভূমে ভালো ফল হয়েছিল। কিন্তু এবার বীরভূমে ১১-০ করে দিতে হবে। বিজেপিকে বীরভূমের মাটিতে শূন্য করে দিতে হবে।'' এ প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের টার্গেট বেঁধে দিয়ে অভিষেকের নির্দেশ, ''বীরভূমে ৩৬০০ বুথ আছে। প্রতি বুথে লিড বাড়াতে হবে।''
