পুণেতে নিহত পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের শাস্তির জন্য নিহতের পরিবারকে সাহায্যের আশ্বাস অভিষেকের। নিহতের আরও দুই ভাই-ও পুণেতে কাজ করেন। এই ঘটনার পর আর ভিনরাজ্যের কর্মস্থলে ফিরে যেতে চান না তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ওই দুই ভাইয়ের চাকরির আর্জি জানাবেন বলেও আশ্বাস অভিষেকের।
পুণেতে 'খুন' পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র
এদিন অভিষেক নিহতের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, "২০০৯ সাল থেকে নিহত ও তাঁর দুই ভাই ওই কোম্পানিতে কাজ করছে। প্রতিদিন সাড়ে তিনটের শিফট থাকত সুখেন মাহাতোর। ওইদিন তিনটে নাগাদ কাজে যাবে বলে বেরিয়েছিল। সন্ধ্যায় দাদা ফোন করেন সুখেনকে। ফোনে পাননি। এরপর পুলিশ ফোন করে জানায় সুখেন অসুস্থ। দাদা গিয়ে দেহ দেখতে পান। শরীরের একাধিক জায়গায় ক্ষতচিহ্ন। তাতেই স্পষ্ট খুন করা হয়েছে। কীভাবে মারা গিয়েছেন সুখেন বলতে পারব না। তবে আমার বিশ্বাস প্রকৃত তদন্তে সে তথ্য উঠে আসবে।"
পুণে থেকে পুরুলিয়ায় ফিরল সুখেন মাহাতোর দেহ। নিজস্ব চিত্র
অভিষেক বলেন, "প্রয়োজনে হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে যেতে হলে যাব। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতেই হবে। সবসময় মৃতের পরিবারের পাশে আছি।"
পরিবারকে সবরকমভাবে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, "আমি শুনেছি ১জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছে। যারা এর সঙ্গে যুক্ত যাতে তারা জেলের পর বেল না পান, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে যেতে হলে যাব। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতেই হবে।" এই প্রসঙ্গে পুণে থেকে পুরুলিয়ায় দেহ ফেরানোর ক্ষেত্রে কীভাবে তৃণমূল নেতারা মৃতের দাদার পাশে দাঁড়িয়েছে, সেকথা জানান অভিষেক। তাঁর কথায়, "পুণে থেকে দেহ ফেরানো নিয়ে সমস্যা হয়। একবার বলছে ময়নাতদন্ত হবে। একবার বলছে থানায় যেতে হবে। আমরা খবর পাওয়ামাত্র অভিভাবকের মতো ওঁর দাদার পাশে এসে দাঁড়াই। দেহ ফেরানোর জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করি। কীভাবে মারা গিয়েছেন সুখেন বলতে পারব না। তবে আমার বিশ্বাস প্রকৃত তদন্তে সে তথ্য উঠে আসবে।"
পুণেতে কাজ করতে গিয়ে নিহত পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতো। নিজস্ব চিত্র
দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, আগামী দশদিনের মধ্যে দোষীরা ধরা না পড়লে ৬-৭ জনের প্রতিনিধিদল মহারাষ্ট্রে পাঠানো হবে। বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোর কাছে অভিষেকের আর্জি, অন্ততপক্ষে একবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করবেন বিজেপি সাংসদ। আর পুরুলিয়ার কুড়মি যুবক খুনের তদন্তের দাবি জানাবেন। এদিকে, সুখেনের এহেন মৃত্যুর পর আর ভিনরাজ্যে ফিরতে চান নিহতের দুই ভাই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ওই দুই ভাইয়ের পুরুলিয়াতেই চাকরির ব্যবস্থার দাবি জানাবেন অভিষেক। সুখেনের মৃত্যুর প্রতিবাদে শনিবার জেলার প্রত্যেক বিধানসভায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
