পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা! মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে ভাঙে হাত। তাও আবার ডান হাত। প্রবল যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়েই পরীক্ষা দিলেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে।
কেশপুরের ছুতারগেড়িয়া হাই স্কুলের ছাত্রী রুবিনা খাতুন। তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছে আন্দিচক হাইস্কুলে। বৃহস্পতিবার প্রথম পরীক্ষার দিন রুবিনা ভাইয়ের মোটকবাইকে বসে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। সেই সময় দুর্ঘটনার কবলে তাঁদের বাইক। রাস্তায় ছিটকে পড়েন ছাত্রী। অভিঘাতে ডান হাত ভেঙে যায় রুবিনার। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডান হাত ভাঙা অবস্থায় রুবিা পরীক্ষা দেবেন কী করে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। কিন্তু পরীক্ষা দিবেনই অনড় ছিলেন রুবিনা।
হাসপাতাল থেকে খবর যায় কর্তৃপক্ষের কাছে। সঙ্গে সঙ্গে রাইটারের ব্যবস্থা করা হয়। হাত ভাঙার যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বেডে বসে রাইটারের সাহায্যেই পরীক্ষা দেন রুবিনা। কাউন্সিলের পরামর্শদাতা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রামজীবন মাণ্ডি বলেছেন, "ওই পরীক্ষার্থী তার ভাইয়ের মোটরবাইকে বসে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসছিল। পথেই তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে রাইটার নিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।" বাকি পরীক্ষাগুলিও রুবিনা রাইটারের সাহায্যেই দেবেন বলেই জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, পরীক্ষার প্রথমদিনে অ্যাডমিট কার্ড বাড়িতে ফেলে আসায় সমস্যায় পড়েন ৪ ছাত্রী। তাঁদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন শহরের তিন ট্রাফিক পুলিশ কর্মী ও এক নাগরিক। শালবনির ভাদুতলা বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের পরিক্ষার সিট পড়েছিল মেদিনীপুর শহরের কুই কোঠাস্থিত শঙ্করী বিদ্যায়তনে। সময়ের বেশ কিছুটা আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু হঠাৎই চারছাত্রীর কান্নার আওয়াজে তাল কাটে সকলের। জানা যায়, ওই চারছাত্রী তাদের অ্যাডমিট কার্ড বাড়িতেই ভুলে এসেছে। কারও বাড়ি ভাদুতলায় তো কারও আবার আরও কিছুটা দূরে কড়েদানা গ্রামে। যা পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে প্রায় দশ-বারো কিলোমিটার দূরে।
খবর পেয়েই স্কুলে যান তিন ট্রাফিক পুলিশ। পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে চলে আসেন স্থানীয় দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিতালী বন্দোপাধ্যায়ও। তিন সহকর্মী প্রসেনজিৎ ঘড়ুই, শ্যামলেন্দু হাঁসদা, বিপ্লব বন্দোপাধ্যায় ও স্থানীয় এক যুবক প্রত্যেককে পৃথক পৃথক বাইকে বসিয়ে তাঁদের বাড়ি নিয়ে যান। অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। চারজনের মধ্যে তিনজন পরীক্ষা শুরুর আগেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বাকি একজন পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট পর কেন্দ্রে ঢোকেন। জানা গিয়েছে, ৪ জনের পরীক্ষা ভালোই হয়েছে।
