'গুজব' ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করার বিরুদ্ধে পুলিশ এবার কঠোর অবস্থান নিল। পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে গুজব সৃষ্টিকারীদের উপর নজরদারি শুরু হয়েছে। ধরা পড়লে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যদিও পুলিশ এখনও পর্যন্ত গুজব সৃষ্টিকারীদের একজনকেও চিহ্নিত করতে পারেনি, তবে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে গুজবে প্রভাবিত হয়ে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন।
দিন কয়েক ধরে খড়গপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা-সহ খড়গপুর গ্রামীণ থানার কিছু এলাকায় নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সোশাল মিডিয়ায় এমন কিছু ভিডিও ঘুরছে যেখানে দাবি করা হয়েছে, রাতের অন্ধকারে অচেনা লোকজন গ্রামে ঢুকে বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ছে। ধাক্কা দিচ্ছে এবং কোথাও ভোটার কার্ড-সহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দেখতে চাইছে। পুলিশ একে পুরোপুরি গুজব বললেও, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার খড়গপুরের এসডিপিও ধীরাজ ঠাকুর খড়গপুর টাউন থানায় সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “আমরা গোটা বিষয়ের উপর নজর রাখছি। গুজবের উৎসে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। তবে আমাদের অনুরোধ, গুজবে কেউ কান দেবেন না। অযথা আতঙ্কিত হয়ে আইন হাতে তুলে নেবেন না। যদি সন্দেহজনক কিছু নজরে পড়ে তাহলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”
এসডিপিও ধীরাজ ঠাকুর বলেন, "আমরা গোটা বিষয়ের উপর নজর রাখছি। গুজবের উৎসে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। তবে আমাদের অনুরোধ, গুজবে কেউ কান দেবেন না।"
পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, রাতে খড়গপুরের ৩৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ও খড়গপুর গ্রামীণ থানার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পুলিশের টহলদারি চলছে। মাইকে প্রচার করা হচ্ছে গুজবের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য। প্রসঙ্গত, খড়গপুর শহরের কিছু অংশ ছাড়াও গ্রামীণ থানার গোপালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কুচলাচটি, শোলাডহর, ভেটিয়া এলাকায় গুজবের জেরে রাতে সাধারণ মানুষ ভয়ে ও আতঙ্কে কাঁটা হয়ে থাকছেন। শুধু তাই নয়, কিছু এলাকায় বাসিন্দারা রাত পাহারা শুরু করেছেন। আর এই রাত পাহারায় বুধবার গভীর রাতে শোলাডহর এলাকায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয় মানুষ। বৃহস্পতিবার সকালে ওই ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তবে খড়গপুরের এসডিপিও জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির বাড়ি লালগড় থানার পিড়াকাটা এলাকায়। তিনি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন। এদিকে, এদিন তৃণমূলের খড়গপুর শহর কোর কমিটির পক্ষ থেকে দুপুরে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। ছিলেন পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষ থেকে শুরু করে প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার, রবিশঙ্কর পাণ্ডে, জহরলাল পাল, কাউন্সিলর অপূর্ব ঘোষ, রোহন দাস, ডি বাসন্তী প্রমুখ। কল্যাণী ঘোষ তাঁর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়া এলাকায় এরকম গুজবের বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনিও আইন হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সকলের কাছে অনুরোধ জানান।
প্রদীপ সরকার চক্রান্তের অভিযোগ তুলে বলেন, “শান্ত খড়গপুর শহরকে অশান্ত করে তোলার জন্য বিরাট একটি চক্র কাজ করছে।” পাশাপাশি গুজব ছড়ানোর পিছনে নাম না করে বিজেপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বহিরাগতরা এসে খড়গপুর শহরে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশকে জানানো দরকার।” এদিকে, এদিন বিকেলে খড়গপুর টাউন থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে এই একই বিষয়ে কাউন্সিলরদের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়। সেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সতর্ক ও তৎপর থাকার আবেদন করা হয়েছে।
