চেম্বারে ঢুকে কোয়াক চিকিৎসককে খুন! এরপর কোমরে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র ঝুলিয়ে একেবারে সটান থানায় হাজির হয়েছিলেন ধৃত জীবন রুই দাস! ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বর্ধমানে। কিন্তু এত বড় ঘটনা ঘটিয়েও চোখেমুখে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই জীবনের! বরং তাঁর দাবি, ওই চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ঠাকুমা মারা গিয়েছে। তাই চিকিৎসককে মেরে দিয়েছি। আজ বুধবার ধৃত জীবনকে আদালতে তোলা হয়। সেই সময়েই অকপট অপরাধের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। আর এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ার কারণেই ধৃত জীবন রুই দাসের এহেন আচরণ?
মঙ্গলবার বর্ধমানের বাদামতলা এলাকায় চিকিৎসকে ধারালো কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার পর নিজেই থানায় গিয়ে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে জীবন রুইদাস। বুধবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে পুলিশ। এদিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় জীবনকে জিজ্ঞাসা করা হয় কেন তিনি চিকিৎসককে খুন করেছেন?
নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় জীবন বলতে থাকেন, ''ওই চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ঠাকুমা মারা গিয়েছে। তাই চিকিৎসককে মেরে দিয়েছি।'' পাশাপাশি, ধৃত জীবন জানায়, চিকিৎসককে খুন করার জন্যেই তার চেম্বারে গিয়েছিলেন তিনি। যাওয়ার আগে একটি ধারালো কাটারি কিনে নিয়ে যান। চিকিৎসককে দেখানোর ছল করে তাঁর চেম্বারে ঢোকেন জীবন। যদিও তার আগে বেশ কিছুক্ষণ ধরে চেম্বারের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়েছিল জীবনকে। চেম্বার একটু ফাঁকা হতেই চিকিৎসককে গিয়ে কোমরে ব্যথা বলে জানান তিনি। জানা যায়, কোয়াক চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করে দেখার পর যখন প্রেসক্রিপশন লিখছিলেন, সেই সময় অভিযুক্ত কাটারি বের করে তাঁর ঘাড়ে কোপ মারে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, মৃত্যু নিশ্চিত করতে একাধিকবার কোপ মারা হয়েছিল বলেও দাবি পুলিশের।
বর্ধমানের শক্তিগড় থানার আমড়া এলাকায় বাড়ি জীবন রুইদাস এলাকায় আর পাঁচটা সাধারণ ছেলের মতোই পরিচিত। ছোটবেলায় পাশের গ্রামে মামার বাড়িতে বড় হয়েছে সে। আমড়া এলাকায় তাঁর মায়ের দ্বিতীয় পক্ষের বিবাহ হয়। মায়ের দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তাঁদের সঙ্গেই থাকত জীবন। সৎ বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় বাজারে সবজি ও ফলের ব্যবসা করতেন জীবন। তবে, অন্যান্যদের তুলনায় জীবন কিছুটা চুপচাপ স্বভাবের ছিল বলে জানিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা। বেশিরভাগ সময়ে গ্রামে এক ঘুরতে দেখা যেত তাঁকে। নিজের মনেই বিড়বিড় করে ঘুরে বেড়াতেন।
জীবনের বাবার পরিবারের ঠাকুমার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জীবনের। কয়েক মাস আগে ঠাকুমাকে নিয়ে বর্ধমানের বাদামতলা এলাকায় কোয়াক চিকিৎসক রাজা ভৌমিকের কাছে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। জানা যায়, এরপরেই বার্ধক্যজনিত কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জীবন মনে করে কোয়াক চিকিৎসক রাজা ভৌমিকের ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসককে কেন খুন করলেন জিজ্ঞাসা করলে জীবন জানিয়েছেন, তাঁর মতো আর কারও ক্ষতি যাতে ওই চিকিৎসক করতে না পারেন, সেই কারণে নিজেই তিনি খুন করেছেন চিকিৎসককে।
এদিন পুলিশ তাকে আদালতে পেশ করে হেফাজতের নেওয়ার জন্য আবেদন জানায়। এদিন আদালতেও বিচারপতির সামনে তাঁর অপরাধের কথা স্বীকার করে জীবন রুইদাস। জানা গিয়েছে, আদালত ধৃত জীবনের ৭ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ''অপরাধীকে হেফাজতে নিয়ে খুনের ঘটনার তদন্ত করবে পুলিশ। খুনের আগে কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।''
