ইছাপুর মেটাল এন্ড স্টিল ফ্যাক্টরিতে এবার তৈরি হবে ৫০০ ও ১০০০ কেজির এরিয়াল বোমার বডি। পাশাপাশি বড় কামান, ভারী যুদ্ধাস্ত্র এবং আধুনিক অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির ক্ষমতাও বাড়ছে মেটাল এন্ড স্টিল ফ্যাক্টরির। ৭৫১ কোটি টাকারও বেশি খরচে তৈরি হচ্ছে দু’টি নতুন পরিকাঠামো।
রবিবার কলকাতার গার্ডেন রিচ থেকে ভারচুয়ালি প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, ৪৭৩.৮৪ কোটি টাকায় মেটাল এন্ড স্টিল ফ্যাক্টরিতে তৈরি হচ্ছে নতুন ফরজিং প্ল্য়ান্ট। ২৭৭.৫৯ কোটি টাকায় পুরনো ২৬৫০ টনের প্রেসের বদলে বসছে ৩০০০ টনের নতুন প্রেস। ফলে ভারী ধাতুর বড় অংশ দ্রুত গড়ে নেওয়া সম্ভব হবে। কেন এই বাড়তি সক্ষমতা? এনিয়ে কারখানার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কুন্দন সিং বলেন, “এই কারখানার মূল শক্তিই হট ফরজিং। প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর ব্যারেল আমরা তৈরি করছি। ফরজিংয়ের চাহিদা অনেক বেড়েছে। তাই ক্ষমতা বাড়াতে এই দু’টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।”
ইছাপুর মেটাল এন্ড স্টিল ফ্যাক্টরিতে পুজো। নিজস্ব ছবি।
জানা গিয়েছে, এরিয়াল বোমার বডি তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। তৈরি হয়েছে প্রোটোটাইপ। কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে, শেষ হয়েছে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ইছাপুরকে এরিয়াল বোমার অন্যতম বড় উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। বিদেশে রপ্তানির প্রস্তুতিও চলছে। এনিয়ে কুন্দনের বক্তব্য, “কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী আর্থিক বছরে এরিয়াল বোমার রপ্তানিও শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।” নতুন ব্যবস্থায় রেল, পরমাণু পরিকাঠামো এবং আধুনিক অস্ত্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও তৈরি করা যাবে। ১৯০৫ সালে তৈরি এই কারখানায় বর্তমানে কামানের ব্যারেল, ব্রিচ রিং, ব্রিচ ব্লক-সহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অংশ তৈরি হয়। কে-৯ বজ্রের জন্যও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে ইছাপুর মেটাল এন্ড স্টিল ফ্যাক্টরি।
