সিকিম রাজ্য প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ জয়ন্তী পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী উৎসবের বর্ণময় সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন গ্যাংটকে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচার শেষ করে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দু'দিনের সফরে সিকিমে উড়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন বিকেলে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সেনাবাহিনীর চপারে সিকিমের পকিয়ং বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। এরপর রোড শোতে যোগ দেন। মঙ্গলবার পালজোর স্টেডিয়ামে একটি বর্ণময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের ভার্চুয়ালি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কথা রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য পর্যটকদের জন্য ইতিমধ্যে একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে আজ, মঙ্গলবার যারা ট্রেন অথবা উড়ান ধরতে শিলিগুড়িতে নামতে চান তাদের ভোর ছ'টার মধ্যে গ্যাংটক ছেড়ে যেতে নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সিকিমের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগ।
মঙ্গলবার পালজোর স্টেডিয়ামে একটি বর্ণময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের ভার্চুয়ালি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কথা রয়েছে তাঁর।
১৯৭৫ সালের ১৬ মে ভারতের ২২ তম রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে চিন সীমান্ত সংলগ্ন সিকিম। প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সম্ভার নিয়ে হিমালয়ের কোলে গড়ে ওই রাজ্য অল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নেয়। ২০২৫ সালের ১৬ মে থেকে পর্যটন নির্ভর, একমাত্র পুরোপুরি জৈব চাষ সমৃদ্ধ রাজ্য সিকিম প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উৎসব শুরু হয়। ঐতিহাসিক বর্ষে রাজ্যজুড়ে উন্নয়ন, জৈব চাষের সাফল্য, পর্যটন বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল উৎসব শেষ হচ্ছে পালজোর স্টেডিয়ামে বর্ণময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। পুরো গ্যাংটক শহর আলোক মালায় সেজে উঠেছে।
সোমবার শহরের ঝকঝকে রাস্তায় বর্ণাঢ্য রোড শোতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (গোলে) এবং সিকিম বিজেপির সভাপতি ডিআর থাপা। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে দেখতে এদিন গ্যাংটকের রাস্তার দু'পাশে দুপুর থেকেই ছিল জনতার উপচে পড়া ভিড়। রোড শোতে সিকিম রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রাজ্যের অনন্য পরিচয় তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ নিজস্ব পোশাকে অংশগ্রহণ করেন। সিকিমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, লাখপতি দিদি, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, বেসরকারি সংস্থা, রাজনৈতিক প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ সংগঠন এবং বিভিন্ন স্তরের নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। মঙ্গলবার পালজোর স্টেডিয়ামে শিল্পীরা মিলিত হবেন। 'ঐক্যের হাজার পদক্ষেপ' শিরোনামের অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ 'অল সিকিম ডান্স ইনস্টিটিউট অ্যাসোসিয়েশন'-এর সদস্য, সঙ্গীতশিল্পী এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধি সহ প্রায় ২ হাজার শিল্পীদের অভিনব সৃজনশীলতা।
সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠান থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের ভার্চুয়ালি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পাশাপাশি পালজোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিরাপত্তার জন্য পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য সিকিম সরকার প্রস্তুতি নেওয়ায় গ্যাংটকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ড্রোন ওড়ানোর উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞাটি ২৬ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
