সোমবার দিনভর দফায় দফায় উত্তপ্ত গোঘাট (Goghat)। সকালে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল গোঘাটের বর্মা এলাকা। বেলা গড়াতেই কার্যত ধুন্ধুমার পরস্থিতি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের উপর হামলার অভিযোগ। সাংসদের গাড়িতে চলে তুমুল ভাঙচুর।
সোমবার সন্ধে হতেই গোঘাটে অ্যাকশন শুরু পুলিশের। বর্মা গ্রামের একাধিক বাড়ি, দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। বাড়ি বাড়ি ঢুকে অভিযুক্তদের রীতিমতো টেনে বের করা হয়েছে। বাধা দিলেই হয়েছে বাহিনীর লাঠাচার্জ। পুলিশ সূত্রে খবর, বর্মায় অশান্তির ঘটনায় একাধিক ফুটেজ রয়েছে তাদের হাতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া একাধিক ভিডিও ও ঘটনার লাইভ ফুটেজও হাতে এসেছে পুলিশের। সেই ভিডিও দেখেই অ্যাকশন শুরু বলে জানা গিয়েছে।
হুগলি গ্রামীণের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, "বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামে ঢুকে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়েছে অভিযুক্তদের। এখনও পর্যন্ত ৮ থেকে ৯ জনকে আটক করেছি। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ দেখেই তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন মহিলাও আছেন। যিনি সকালে সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিলেন। ভোটের আগে ও ভোটের দিনও এই অভিযান চলতে থাকবে। দলবল দেখে নয়, যারা ঝামেলা করেছেন, তাদের বাড়ি শনাক্ত করে করে তুলেছি।" শুধু সংঘর্ষের ঘটনায় ধরপাকড় নয়, তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের উপর হামলার ঘটনার তদন্তে নেমেও তিন জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে গোঘাটে আক্রান্ত তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগ। অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। গোটা শরীরে কাচবিদ্ধ হন তৃণমূল সাংসদ। আহত সাংসদ ভর্তি আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সন্ধে থেকেই গোঘাটে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে ময়দানে নেমে পড়েছে পুলিশ।
