দুনিয়া বড়ই বিচিত্র! কেউ টাকা খরচ করে পারফিউম কেনেন বগলের দুর্গন্ধ দূর করতে। আবার কেউ কেউ নাকি টাকা খরচ করে বগলের গন্ধ শুঁকতে দৌড়োয়! ব্যাপারটা গোলমেলে ঠেকছে না! তাহলে আর আপনাকে বলচি কী? জাপানের এক সুন্দরী যা শুরু করেছেন, তা শুনলে আপনার চক্ষু চড়কগাছ হতে বাধ্য। সুগন্ধি নয়, তাঁর ভক্তরা মজেছেন প্রিয় তারকার বগলের গন্ধে! আজ্ঞে হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। জাপানি এক পপ ‘আইডল’ তাঁর অনুগামীদের জন্য এমনই এক আজব সুযোগ করে দিয়েছেন। যা দেখে তাজ্জব গোটা নেট দুনিয়া।
জাপানের হনশু দ্বীপের ওয়াকায়ামা এলাকার পরিচিত মুখ হারি মাৎসুমোটো। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর ভক্ত সংখ্যা চার লক্ষ ছাড়িয়েছে। সাধারণত গানের অনুষ্ঠানের পর ভক্তদের সঙ্গে শিল্পীরা হাত মেলান। খুব বেশি হলে সেলফি তোলেন। কিন্তু হারি হাঁটলেন উলটো পথে। তিনি শুরু করলেন ‘আর্মপিট স্নিফিং’ বা বগল শুঁকতে দেওয়ার পরিষেবা। অর্থাৎ টাকা দিলেই ভক্তরা কাছ থেকে তাঁর বগলের গন্ধ শোঁকার সুযোগ পাবেন। আর এই খবর চাউর হতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক অল্প বয়স্ক অনুরাগী হারির সামনে এসে ছোট বাচ্চার মতো আবদার জুড়েছেন। তারপর সটান হারির বগলের কাছে নাক নিয়ে গিয়ে ঘ্রাণ নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, হারিও তাঁকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরছেন। এমন ছবি দেখে নেটদুনিয়া অবাক। হারির অনুরাগীরা কেউ বলছেন, 'তোমার গায়ের গন্ধ আমার খুব প্রিয়।' আরও একশো ধাপ এগিয়ে কেউ কেউ হারির সঙ্গে ‘লাইফটাইম লয়্যালটি কন্ট্রাক্ট’ সই করতেও তৈরি। যার অর্থ, জীবনের সমস্ত রোজগার তাঁরা ওই সুন্দরীর পায়ে ঢেলে দিতে প্রস্তুত।
তবে এই আজব কান্ড দেখে নেটিজেনদের একাংশই চূড়ান্ত বিরক্ত। অনেকেই একে 'নোংরামি' ছাড়া আর কিছুই মনে করতে পারছেন না। কেউ কেউ আবার জাপানের এই ‘আন্ডারগ্রাউন্ড আইডল’ সংস্কৃতির সমালোচনা করে বলছেন, বিনোদনের নামে আদতে এসব হচ্ছে সস্তার যৌন সুড়সুড়ি। এই পেশার আড়ালে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা শরীরের গন্ধ বিক্রি করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। যদিও হারি মাৎসুমোটো নিজে এই বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি। বিতর্ক থাকুক বা না থাকুক, হারির এই আজব ‘পার্ক’ বা পরিষেবায় কিন্তু ভিড় কমছে না ভক্তের! সব মিলিয়ে ঘামের গন্ধেই বাজিমাত করছেন এই জাপানি সুন্দরী!
