প্রথম দফার ভোট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও চাপা উত্তেজনা ছিল নন্দীগ্রামে। তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে ছোটখাটো অশান্তি লেগেই ছিল। তা উসকে উঠল রবিবার রাতে। যার রেশ ছিল সোমবার পর্যন্ত। বিজেপি কর্মীর মাছ ধরার জালে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল সমর্থকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘরদোর ভাঙচুর, পুকুরে বিষ মেশানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। যদিও নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
ঠিক কী ঘটেছে? জানা গিয়েছে, গত ২৩ তারিখ নন্দীগ্রামে ভোট শেষে রাত থেকে চাপা উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। তৃণমূল ও বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে চাপানউতোর ছিল। এর মধ্যেই বয়াল-২ দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালচক বাণীবিতান বুথ এলাকায় ঘটে গেল সেই ঘটনা। সেখানকার এক জেলে পরিবার বিজেপির সক্রিয় সদস্য। অভিযোগ, সেই কারণে রাজনৈতিক ঈর্ষা থেকে তাঁদের মাছ ধরার জালে অগ্নিসংযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকের ভাই। তাতে গোটা জাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
নন্দীগ্রামে পারিবারিক বিবাদ থেকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ। নিজস্ব ছবি
গোপালচক বাণীবিতান বুথের বিজেপি সমর্থক তথা জেলে শংকর খালুয়া বলেন, ''নির্বাচনের আগে থেকে ওই প্রতিবেশী ও তাঁর ভাই শাসিয়েছিল, ভোটের পরে তাঁদেরকে দেখে নেওয়া হবে। তারপরেই গতকাল (রবিবার) রাতে মাছ ধরার জালে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেসব জালের দাম ছিল ৫ লক্ষ বেশি।'' এলাকা প্রত্যন্ত গ্রাম হওয়ায় রাতের খাবার খেয়ে ওই পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। প্রতিবেশীরা আগুন দেখতে গিয়ে ওই পরিবারের সদস্যদের ডেকে তোলেন। সকলে মিলে ওই আগুন নেভান। তবে জালগুলি কোনওভাবে রক্ষা করা যায়নি।
আক্রান্ত পরিবারের সদস্য শংকর খালুয়া অভিযোগ করেন, তাঁর ভাই সুদর্শন খালুয়া তৃণমূল সমর্থক এবং হুমকি দিত, আগে ঘর ভাঙচুর, পুকুরে বিষ দেওয়ার মতো কুকীর্তির সঙ্গে যুক্ত থেকেছে। প্রায়শয়ই বলতো, এবারের নির্বাচনের আগে দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিতে। আর নির্বাচন মিটতেই এরকম বড়সড় ক্ষতি। বিজেপির অভিযোগের তির তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু নন্দীগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র কর জানিয়েছেন, এটা সম্পূর্ণ পারিবারিক ব্যাপার, এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও সম্পর্ক নেই।
