আইএসআই-এর পর এবার আল কায়দার (Al-Qaeda) জাল বঙ্গে! দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থেকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফের জালে গ্রেপ্তার দুই জঙ্গিগোষ্ঠীর দুই সদস্য। সোশাল মিডিয়ায় ভারত বিরোধী প্রচার এবং ছোট ছোট এলাকা বেছে সেখানে দাওয়াতের আহ্বান জানিয়ে বা মাদ্রাসাগুলির আড়ালে মগজধোলাইয়ের কাজ করছিল ওই দু'জন। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেসবুকে 'মুঘলে আজম' এবং 'জিহাদ-ই-সবিবিল্লাহ' নামে দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার ভারত বিরোধী উসকানি দিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছিল। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকায় অভিযান চালান এসটিএফের গোয়েন্দারা। তাতেই গ্রেপ্তার হয় দু'জন। তারা আকিস বা আল কায়দা ইন ইন্ডিয়া সাবকন্টিনেন্টের সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃতদের একজনের নাম জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে জানাতুল বেগ ওরফে টুটুল। ভাঙড়ের পানাপুকুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, টুটুল দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে একাই থাকতেন। প্রায় সারাদিন ঘরের ভিতর মোবাইলে নানারকম কাজ করতেন। আগে ল্যাপটপ-কম্পিউটারে কাজ করলেও, বর্তমানে সব কাজ মোবাইল থেকেই করতেন। খুব বেশি বাইরে বেরতেন না। মাঝে মাঝে কিছু লোক টুটুলের সঙ্গে দেখা করতে আসত। তবে ঠিক কী কাজ করতেন, তা কেউ জানতেন না।
অন্যদিকে, সফিক শেখ নামে আরেকজনকে নোদাখালি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসটিএফ সূত্রে খবর, সফিক ও টুটুল দু'জনই আকিসের সদস্যপদ গ্রহণ করেছিল। তারা আড়ালে-আবডালে আল কায়দা মডিউল তৈরি করতে চাইছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে। সংখ্যালঘু এলাকার মানুষজনের সঙ্গে মিশে কখনও দাওয়াতে ডেকে, কখনও মাদ্রাসাগুলিতে গিয়ে মগজধোলাই চলছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ছাড়াও আশপাশে জেলাগুলিতেও আল কায়দার নেটওয়ার্ক একটু একটু করে সক্রিয় করার কাজে মদত দিত টুটুল, সফিক। এসটিএফ সূত্রে আরও খবর, আসলে এরা বেশ অনেকদিন ধরেই এমন ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর এদের জালে আনতে অত্যন্ত তৎপর হয়েছে সরকার। তার অংশ হিসেবে গোটা রাজ্যজুড়ে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অ্যাকশন অব্যাহত। শুরু হয়েছে তদন্ত।
