জীবিত থেকেও সরকারি নথিতে মৃত! আর সেই কারণেই দু'বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ প্রতিবন্ধী ভাতা। প্রবল সমস্যায় যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার (Nadia) কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের সত্যনগর এলাকায়। বিষয়টি সামনে আসতেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সকলে।
জানা গিয়েছে, নদিয়ার সত্যনগরের বাসিন্দা অশোক বিশ্বাস ও সুষমা বিশ্বাস। তাঁদের একমাত্র ছেলে রাজকুমার বিশ্বাস জন্ম থেকেই ১০০ শতাংশ বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন। পরিবারের দাবি, রাজকুমার জীবিত এবং ভোটার তালিকাভুক্ত। ২০২৬ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগও করেছেন। অভিযোগ, সরকারি নথিতে ভুলবশত তাঁকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর ফলেই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ প্রদান বন্ধ রয়েছে। ফলে আর্থিক অনটনের মধ্যেই দিন কাটছে তাঁদের। বৃদ্ধ অশোক বিশ্বাস আগের মতো দিনমজুরের কাজ করতে পারেন না। ফলে সংসারের খরচ চালানো এবং অসুস্থ ছেলের দেখভাল করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
অশোক বিশ্বাসের অভিযোগ, সমস্যার সমাধানের আশায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী একাধিকবার কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস এবং পঞ্চায়েত সমিতির দপ্তরে গিয়েছেন। প্রতিবারই প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাজকুমার বিশ্বাসের লাইফ সার্টিফিকেটও জমা দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকারি নথিতে বদল করা হয়নি। এবিষয়ে কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী কাকলি দাসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সরকারি নথির এই অসঙ্গতি কতদিনে সংশোধন করে রাজকুমার বিশ্বাসের প্রতিবন্ধী ভাতা পুনরায় চালু হবে, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে পরিবার।
