সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই মায়াপুরে দাঁড়িয়ে কৃষ্ণবার্তা শাহের মুখে! শুধু তাই নয়, সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজেকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবেই তুলে ধরলেন তিনি। বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার শুরুতেই ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি তুলে শাহ বলেন, ''আজ আমি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে নয়, বরং চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হিসাবে এসেছি।'' এমনকী বহুবার মায়াপুরে আসার ইচ্ছা থাকলেও যে তা বারবার পিছিয়ে গিয়েছিল, তা নিয়ে আক্ষেপও ধরা পড়ে শাহের বক্তব্যে। তবে ভোটের আগে শাহের মায়াপুরে আসা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। ওয়াকিবহালমহলের কথায়, যেভাবে এদিন হরেকৃষ্ণ ধ্বনি দিয়ে বক্তব্য শুরু করলেন শাহ এবং নিজেকে চৈতন্যভক্ত হিসাবে পরিচয় দিলেন তাতে সুকৌশলে হিন্দুত্বে শান দেওয়ারই চেষ্টা করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ভোটের আগে ধর্মকে ঢাল করে রাজনৈতিক আবেগ তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। এদিন মায়াপুরে দাঁড়িয়ে সেটাই শাহ আরও পোক্ত করার চেষ্টা করলেন বলেও মনে করছেন অনেকেই।
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১২৫তম জন্ম উৎসব উপলক্ষে এদিন মায়াপুরে বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন অমিত শাহ। সেখানে পৌঁছেই প্রথমে মন্দিরে পুজো দেন। এরপর সরাসরি মঞ্চে বক্তব্য রাখেন শাহ। ভক্তদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ''মায়াপুরে আসার আগে সকালেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। মায়াপুর আসার কথা আমি তাঁকে জানিয়েছিলাম। উনি মন থেকে মায়াপুরের সকল ভক্তদের 'হরে কৃষ্ণ’ অভিবাদন জানিয়েছেন।''
এরপরেই শাহের সংযোজন,''সভার শুরুতেই আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে সম্বোধন করা হল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমি এখানে আসিনি। চৈতন্য মহাপ্রভুর অনন্য ভক্ত হিসেবে আজ আমি এখানে এসেছি৷’’ শুধু তাই নয়, শাহ আরও বলেন, ''ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন চৈতন্যদেব। আর সেই আন্দোলন গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।'' এমন পুণ্যভূমিতে এসে চেতনা জাগ্রত করার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি যে ধন্য তাও এদিন তুলে ধরেন শাহ। তাঁর কথায়, ''আজ মহাপ্রভুর এই পুণ্যভূমিতে পা রাখতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য ও কৃতজ্ঞ মনে করছি।"
শাহের এই সফর নিয়ে ইতিমধ্যে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর কথায়, নির্বাচনের আগে এই ধরনের সফরের কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না তা জনগণ বিচার করবে। তিনি মায়াপুরে ইসকন মন্দির পরিদর্শনে আসছেন, তাঁর এই সফর তীব্র রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন করা ব্যক্তিগত বিষয় হলেও, নির্বাচনের আগে এই সফরের কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না দেখা দরকার।
