সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: ফের উত্তপ্ত পুরুলিয়া। ফিরল ত্রিলোচন মাহাতোর মৃত্যুর স্মৃতি। আবার এক তরুণ বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হল। এবার ঘটনাস্থল পুরুলিয়ার ডাভা গ্রাম। মৃতের নাম দুলাল কুমার। বয়স তিরিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়ি। করা হয়েছে রাস্তা অবরোধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বলরামপুরের ডাভা গ্রামে বাড়ি দুলাল কুমারের। শুক্রবার রাতে বাইক নিয়ে গ্রামের শেষপ্রান্তে শৌচকর্ম করতে যান তিনি। একটি পুকুরে পাশে বাইকটি রেখে যান। গ্রামে এভাবেই অনেকে শৌচকর্ম করে থাকেন। তাই প্রথমে কারও সন্দেহ হয়নি। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পরও দুলাল না এলে সন্দেহ হয় তাঁর বন্ধুদের। এরপর সারা গ্রামে বিষয়টি চাউর হয়ে যায়। শুরু হয় খোঁজ। অনেকক্ষণ খোঁজার পরও দুলাল না মেলায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসে বলরামপুর, বাঘমুন্ডি, আরশা থানার পুলিশ। মিলিতভাবে শুরু হয় খোঁজ। ডিএসপি ডিইবি অতুল চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাতভর চলে সার্চ অপারেশন। কিন্তু দুলালের কোনও খোঁজ মেলেনি। সকাল পৌনে ছ’টা নাগাদ গ্রাম থেকে প্রায় তিনশো মিটার দূরে বাঘমুন্ডি সড়কের কাছে বিদ্যুতের হাইটেনশন লাইনের টাওয়ারে দুলালের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান গ্রামের বাসিন্দারা।
[হাবড়ার সভায় পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের, পালটা চ্যালেঞ্জ পার্থর]
নাইলনের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ছিল দুলালের। পরনে টি-শার্ট ও জিনস। আর ডান পকেটে মোবাইলটিও ছিল। রাতে যখন দুলালকে ফোন করা হয়েছিল। মোবাইলটি কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। আসে ঝালদা, কোটশিলার থানার পুলিশও। কিন্তু মৃতদেহ উদ্ধার করতে দেননি স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, তিন দিন আগে এভাবেই সুপুরডি গ্রামে বিজেপির যুবকর্মী ত্রিলোচন মাহাতোকে খুন করা হয়েছিল। ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল তাঁর দেহ। ত্রিলোচনের পরনে থাকা জামার উপর হুমকি পোস্টার লেখাও উদ্ধার হয়েছিল৷ দুলালের মৃত্যুও একইভাবে হয়েছে৷ ঘটনার পরই বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়৷ ডাভা মোড়ের কাছে পথ অবরোধ করা হয়৷ ডিএসপি ডিইবি অতুল চট্টোপাধ্যায়ের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয়েছে বিশাল বাহিনী৷
ঘটনায় শাসকদলের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে স্থানীয় বিজেপি৷ বিজেপির পুরুলিয়ার জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘আবার আমাদের কর্মীকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে৷ এই ঘটনার কিনারা করতে হবে৷’ তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে৷ পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে৷ ইতিমধ্যেই আদ্রা রেল সুরক্ষা বাহিনীর কাছ থেকে স্নিফার ডগ চাওয়া হয়েছে৷ স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বাড়ির বাইরে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে৷ জঙ্গলমহলের দুই ঘটনার তদন্তের ভার সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে৷ ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা৷ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন৷ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা উচিত বলে দাবি করেন তিনি৷ এর নেপথ্যে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কী ভূমিকা রয়েছে৷ বজরং দল, মাওবাদী কিংবা বিজেপির কী ভূমিকা রয়েছে৷ তাও খতিয়ে দেখার দাবি তোলেন৷
ছবি- অমিত সিং দেও
[নারী সুরক্ষায় সমস্ত উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতে বিশাখা কমিটি গড়ার নির্দেশ রাজ্যের]
The post ফের বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, উত্তপ্ত পুরুলিয়া appeared first on Sangbad Pratidin.
