নন্দন দত্ত, সিউড়ি: বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে কর্মীদের দলে ধরে রাখার পথ বেছে নিলেন বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি। সাঁইথিয়ার পথসভায় হুঁশিয়ারি দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। নাম না করে বিজেপি নেতার উদ্দেশ্যে তৃণমূলের তাঁর হুঁশিয়ারি, “তুমি ছড়ি দেখালে আমি ডাং দেখাব। তুমি বাড়ি মারলে তোমার পা ভেঙে দেব। তুমি যেমন চলবে, আমি তেমন চলব। চোখ দেখাবেন না। কাউকে ভয় পাবেন না। ওরা লীলা দেখালে আমি চারগুণ লীলা করে দেব।’’ এরপরেই বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তাঁর কটাক্ষ, ‘লীলা দেখাব নাকি?’
[আরও পড়ুন: ‘জয় শ্রীরাম’ বলায় এক মহিলাকে কুড়ুলের কোপ, কাঠগড়ায় তৃণমূল]
বীরভূমের দুটি লোকসভা আসনে জয়ী হলেও সাঁইথিয়া-সহ চারটি বিধানসভা এলাকায় হেরেছে তৃণমুল। ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে দলের ভাঙন অব্যাহত। তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, শাসকদলের বেশ কয়েকজন নেতা, এমনকী কাউন্সিলরও নাকি গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বস্তুত লাভপুরের বিধায়ক মণিরুল ইসলাম ও নানুরের প্রাক্তন বিধায়ক গদাধর হাজরা-সহ বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা দল বদলেও ফেলেছেন। সাঁইথিয়ায় এক পথসভায় অনুব্রত মণ্ডল কার্যত হুমকির সুরেই বলেন, ‘বাড়িতে কাউকে মদ খেয়ে ঝামেলা করতে পাঠালে আমি গাঁজা খাইয়ে লোক পাঠিয়ে দেব। আপনি মস্তানি করলে আমি রাজি আছি। কোনও কিছুতেই পিছিয়ে থাকব না। আগ বাড়িয়ে কিছু করতে আসবেন না’।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এদিন আবার সাইঁথিয়ার বিজয় মিছিল করে তৃণমূল কংগ্রেস। বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রে জয়ী প্রার্থী অসিত মালের সমর্থনে বিজয় মিছিলে পা মেলান শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা। যা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কারণ বৃহস্পতিবার নিমতায় দলের নিহত নেতার বাড়িতে গিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যের আর কোনও বিজয় মিছিল করা যাবে না। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজয় মিছিল নয়৷ সাধারণ মিছিল করে দলের কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন কর্মীরা।
ছবি: সুশান্ত পাল৷
[আরও পড়ুন: ঝাড়ুদার থেকে সচেতনতা প্রচারক, সাইকেলে ভারত ভ্রমণেই বার্তা নদিয়ার জয়দেবের]
The post ছড়ির পালটা ডাং, কর্মীদের চাঙ্গা করতে বিজেপিকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি অনুব্রতর appeared first on Sangbad Pratidin.
