সৌরভ মাজি, বর্ধমান: দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের কোপ থেকে বাদ গেলেন না পরীক্ষার্থীরাও। সকালে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় ধর্মঘটীদের বাধার মুখে পড়েন স্নাতক স্তরের কয়েকজন পড়ুয়া। মঙ্গলবার ছিল স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা। মেমারি থেকে গাড়ি নিয়ে বর্ধমান রাজ কলেজে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন তাঁরা। তখনই সিপিএমের পতাকা হাতে একদল ধর্মঘটী তাঁদের গাড়ি আটকান। গাড়ির সামনে ‘এমারজেন্সি’ লেখা থাকা সত্বেও কেন সাধারণ ধর্মঘটের দিন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন, এই প্রশ্ন তুলে গাড়ি আটকে কাচ ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরীক্ষার্থীরা অনুরোধ জানান, তাঁরা পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন, তাই ছেড়ে দেওয়া হোক। প্রাথমিকভাবে আবেদনে সাড়া মেলেনি। উলটে তাঁদের গাড়ি আটকে রাখা হয় প্রায় দশ মিনিট ধরে। ধর্মঘটীদের এই জুলুম সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। শেষমেশ অবশ্য পরীক্ষার্থী অনুরোধে সাড়া দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।
সিপিএম জেলা সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিকের সঙ্গে এনিয়ে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দায় এড়িয়েছেন। তবে তাঁর সাফাই, ‘পরীক্ষার্থীদের গাড়ি এভাবে আটকানো অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁরা অসুবিধায় পড়ার জন্য দুঃখিত।‘ যদিও সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছেন সকলে।
[বামেদের বনধে রাজ্যজুড়ে বিক্ষিপ্ত অশান্তি, ব্যাহত রেল পরিষেবা]
তবে ৪৮ ঘণ্টার এই সাধারণ ধর্মঘটের প্রথম দিন সীমান্ত বাণিজ্যে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বনগাঁর পেট্রাপোলে স্বাভাবিক ছিল বাণিজ্য। শ্রমিকদের স্বার্থে বামেরা ধর্মঘট ডাকলেও পেট্রাপোল সীমান্তের শ্রমিকরা ধর্মঘটকে আমল দেননি বিন্দুমাত্র। সীমান্ত বাণিজ্যের যাবতীয় কাজ আর পাঁচটা দিনের মতোই হয়েছে। হয়েছে আমদানি, রপ্তানিও। সকাল থেকেই পণ্যবোঝাই ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং আমদানীকৃত পণ্য ভারতে এসেছে নিয়মমাফিক। যাত্রী পরিষেবা, স্কুল কলেজ, দোকানপাট, বাজারঘাটে কোনও প্রভাবই পড়ল না বামপন্থী শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটে। বুধবারও রয়েছে ধর্মঘট। ওই দিনও সীমান্তের সমস্ত পরিষেবা সচল থাকবে বলে আশা শ্রমিক থেকে সাধারণ মানুষ, সকলের।
