shono
Advertisement
Bankura

মায়ের সান্ত্বনাতেও হল না কাজ! স্মার্টফোনের আবদার না মেটায় চরম সিদ্ধান্ত কিশোরের

ছাত্রের অকালমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।
Published By: Sayani SenPosted: 02:04 PM Aug 07, 2026Updated: 03:45 PM Aug 07, 2026

স্মার্টফোনের আবদার পূরণ করার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। অভাব-অনটনের সেই বাস্তবের মধ্যেই নিভে গেল এক কিশোরের জীবন। বাঁকুড়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বছর চোদ্দর কিশোর শুভম চট্টোপাধ্য়ায়। তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।

Advertisement

রাজগ্রাম হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল শুভম। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই একটি স্মার্টফোন কিনে দেওয়ার জন্য বাবা-মায়ের কাছে আবদার করছিল শুভম। কিন্তু সংসারের আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে সেই দাবিপূরণ করতে পারেননি তাঁরা। বৃহস্পতিবার বাড়িতে কেউ না থাকার সময় শুভম গলায় দড়ি দেয় বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যেরা উদ্ধার করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে জানান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ।

শুভমের বাবা শীতল চট্টোপাধ্যায় পেশায় গাড়িচালক। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মা নিকিতা চট্টোপাধ্যায় অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। কোনওরকমে সংসার চালান। সংসারের সীমিত আয়েই চলছিল দিনযাপন। কান্নাভেজা গলায় মা নিকিতা বলেন, "ছেলে কয়েকদিন ধরে মোবাইল কিনে দিতে বলছিল। আমি বুঝিয়েছিলাম, এখন আমাদের হাতে টাকা নেই। একটু সময় দিলে কিনে দেব। ভাবতেই পারিনি, ও এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে।" ছাত্রের বাবা বলেন, "আমি গাড়ি চালিয়ে যা রোজগার করি, তাতে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। মোবাইল কিনে দিতে পারিনি। আমার ছেলেকে আর কোনওদিন ফিরে পাব না।" প্রতিবেশীদের কথায়, শুভম শান্ত ও মেধাবি ছাত্র ছিল। তার অকালমৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা এলাকাকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে। তবে মোবাইল না পাওয়ার অভিমানই একমাত্র কারণ নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement