কয়েক মাস আগেই তৎকালীন সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী দাবি করেছিলেন ''অপারেশন সিঁদুর এখনও চলছে।” সেই সঙ্গেই তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, ভারত বিরোধী কার্যকলাপে লাগাম না টানলে, চরম ফল ভুগতে হবে পাকিস্তানকে। তাঁর কথায় উঠে এসেছিল অপারেশন ২.০-র প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনা। সত্যিই কবে ফের এমন অপরাশেন চালাবে ভারত, তা ভবিষ্যৎই বলবে। কিন্তু ফের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ হলে হয়তো পাকিস্তানের পাশে থাকবে দুই দেশ সৌদি আরব ও তুরস্ক। শুক্রবারই সৌদির শহর জেদ্দায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে একটি যুগ্ম প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলেই দাবি সংবাদ সংস্থা এএফপির।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক শক্তিগুলি তাদের প্রতিরক্ষা-সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, "বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।" সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তিটি শুক্রবার স্বাক্ষরিত হবে। যদি সত্যিই তাই হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, পরবর্তী অপারেশন সিঁদুর বা অন্য কোনও অভিযানে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে সৌদি ও তুরস্ক।
ফের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ হলে হয়তো পাকিস্তানের পাশে থাকবে দুই দেশ সৌদি আরব ও তুরস্ক। শুক্রবারই সৌদির শহর জেদ্দায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে একটি যুগ্ম প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ নিরস্ত্রকে হত্যা করে লস্করের ছায়া সংগঠন টিআরএফের চার জঙ্গি। এই হামলার জবাবে ৭ মে ভোর-রাতে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে যায় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ু সেনাঘাঁটি। ভারতীয় সেনার অভিযানে নিহত হয় ১০০ জনের বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের আর্জিতে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় নয়াদিল্লি। ৮৮ ঘণ্টার অপারেশনে দুরমুশ হয়ে গিয়েছিল সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর। ফের তেমন কোনও হামলার পুনরাবৃত্তি হলে কী হবে, সেটাই দেখার।
