অর্ণব দাস, বারাকপুর: নিজের সন্তানকে নৃশংসভাবে খুন ও দেহ লোপাটের চেষ্টা। কর্নাটকের চিত্রদুর্গ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ সংস্থার সিইও সূচনা শেঠের কীর্তিতে তোলপাড় গোটা দেশ। কীভাবে একজন মা নিজে হাতে তাঁর সন্তানকে খুন করতে পারেন, তা ভেবে শিউরে উঠছেন সকলে। সেই সূচনারই কলকাতা যোগ। আড়িয়াদহের রামগড়ে খোঁজ মিলল তাঁর মাসির বাড়ির।
আড়িয়াদহের রায়গড়ের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা রূপা বসু। তাঁর দিদির মেয়ে সূচনা। গত তিন-চার বছর আগে আড়িয়াদহের রামগড়ে মাসির বাড়িতে শেষবার এসেছিলেন সূচনা। তার পর থেকে আর মাসির সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে ‘সন্তানঘাতী’ সূচনাকে দেখেন তাঁর মাসি। কার্যত আঁতকে ওঠেন। সকলের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে ক্লান্ত হয়ে যান সূচনার মাসি। যোগাযোগ করেন আইনজীবীর সঙ্গে। তাঁর পরামর্শ মতোই কারও সঙ্গেই আর এ বিষয়ে সূচনার মাসি কথা বলছেন না বলেই জানান কামারহাটি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের।
[আরও পড়ুন: ‘কেউ কারও বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বললে ছেঁটে ফেলা হবে’, অভিষেককে পাশে নিয়ে বার্তা মমতার]
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সন্তানের শ্বাসরোধ করতে সম্ভবত বালিশ বা তোয়ালে ব্যবহার করেছিলেন সূচনা। মনে করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণে সিরাপ খাইয়ে ছেলেকে অচেতন করে তার পর তার শ্বাসরোধ করে অভিযুক্ত। সেই কারণেই ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, প্রতিরোধের কোনও চেষ্টাই করেনি ছোট্ট শিশুটি। ওই অ্যাপার্টমেন্টের এক কর্মী জানাচ্ছেন, তাঁকে দিয়ে একটি ছোট সিরাপের বোতল আনান সূচনা। বড় বোতলটি তিনি নিজে নিয়ে এনেছিলেন, অনুমান এমনই। তবে কেন এমন কাজ করলেন সূচনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরই এমন সিদ্ধান্ত বলেই মনে করা হচ্ছে।
দেখুন ভিডিও:
