shono
Advertisement
Birbhum

অনুব্রত ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়িতে সাড়ে ২৮ কোটি! অবাক করবে এই মিনার মণ্ডলের উত্থান

স্থানীয়দের থেকে শুরু করে বিজেপির নেতা সকলেরই দাবি, এই টাকা মিনারের বাড়িতে থাকলেও টাকার আসল মালিক টুলু মণ্ডলই।
Published By: Kousik SinhaPosted: 09:09 PM Jul 29, 2026Updated: 10:56 PM Jul 29, 2026

অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার তথা আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার কোটি কোটি টাকা! খোঁজ বিপুল সোনার। বুধবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে ১৫ কেজি সোনা এবং নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। গোটা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি টুলু মণ্ডলের নাম জড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, পাথর ব্যবসার আড়ালে বড়সড় কোনও দুর্নীতি রয়েছে! আর তারই টাকা মিনারের বাড়িতে লুকানো ছিল? কিন্তু কে এই মিনার মণ্ডল?

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দা শিবলাল সোরেন বলেন, ''গত কয়েক বছরে হালচাল বদলে গিয়েছিল মিনার মণ্ডলের৷ হাতে টাকা এল যেমন বদল আসে, ঠিক তেমনই!'' 

যে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে এই বিপুল অর্থ উদ্ধার হল, তাকে কার্যত চিনতেনই না থানার পুলিশ কর্মীদের থেকে শুরু করে স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশও৷ টুলু মণ্ডলের একজন সাধারণ কর্মচারী হিসাবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি৷ ছেলের ভাল চাকরি, মেয়েরও বিয়ে হয় এক শিক্ষকের সঙ্গে৷ সব মিলিয়ে এলাকায় 'ক্লিন ইমেজ' ছিল মিনারের৷ তবে মিনারের উত্থানের কাহিনী বেশ চমকপ্রদ! স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু বছর আগে পর্যন্তও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থায় বাসের চালকের কাজ করতেন মনির মণ্ডল। কিন্তু বছর চারেক আগে সেই সরকারি কাজ থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে টুলু মণ্ডলের ব্যবসার কাজ দেখাশোনাতেই মন দেন তিনি। জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডল ইজারা নিয়ে যে কয়েকটি ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) গেট চালাতেন, তারই মধ্যে রায়পুরের ডিসিআর গেটের দেখভাল করতেন মিনার। মহম্মদবাজার থানা এলাকার ডেউচা বাস স্ট্যান্ডের পাশেই তাঁর দোতলা বাড়ি আকারে বেশ বড় হলেও আলাদা করে বিশেষ নজরে পড়ে এমনটা নয়! জাতীয় সড়কের পাশে থাকা বাড়ির সামনের রাস্তাটুকুর দশাও বেহাল।

মিনার মণ্ডলের বাড়ির সামনে পুলিশের ব্যারিকেড।

স্থানীয়দের থেকে শুরু করে বিজেপির নেতা সকলেরই দাবি, এই টাকা মিনারের বাড়িতে থাকলেও টাকার আসল মালিক টুলু মণ্ডলই। তৃণমূল আমলে বীরভূম জেলায় বেআইনি পাথর ও বালির ব্যবসার বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিলেন টুলু মণ্ডল।

তবে এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায়, গত চার বছরের মধ্যে ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল মনির। রাতারাতি বদলে যায় ঠাটবাট। স্থানীয় বাসিন্দা শিবলাল সোরেন বলেন, “গত কয়েক বছরে হালচাল বদলে গিয়েছিল মিনার মণ্ডলের৷ হাতে টাকা এল যেমন বদল আসে, ঠিক তেমনই! তবে ওঁর বাড়ি থেকে এত কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হবে আমরাও ভাবিনি৷ মহম্মদবাজারের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আদিবাসীরা বঞ্চিতই থেকেছে আর তাদের হকের টাকা লুঠ করেছে এই ধরণের লোকেরা।”

বাড়িতে টাকার পাহাড়।

যদিও, স্থানীয়দের থেকে শুরু করে বিজেপির নেতা সকলেরই দাবি, এই টাকা মিনারের বাড়িতে থাকলেও টাকার আসল মালিক টুলু মণ্ডলই। তৃণমূল আমলে বীরভূম জেলায় বেআইনি পাথর ও বালির ব্যবসার বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছিলেন টুলু মণ্ডল। নকল ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) বানিয়ে দৈনিক কয়েক কোটি টাকা রোজগার করতেন তিনি। সেই টাকার ভাগ তৃণমূল আমলে দলের জেলা থেকে রাজ্য নেতৃত্ব পর্যন্ত সব জায়গাতেই পৌঁছে যেত বলেও অভিযোগ। বিধানসভা ভোটের আগে নিউটাউনে একটি গাড়ি থেকে ৫ কোটি টাকা উদ্ধার করে এসটিএফ, সেই ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছিল টুলু মণ্ডলের। ২০২২ সালে একটি খুনের মামলায় টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতারও করে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। খুন, হুমকি, অস্ত্র প্রদর্শন, ঝামেলায় উস্কানি সহ একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। মাস খানেক জেল হেফাজতে থাকার পর এই মামলায় জামিন পান টুলু।

টুলু মণ্ডলের ছবি।

বছর দুয়েক আগে বলিউডের তারকাদের উপস্থিতিতে সিউড়িতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে টুলু মণ্ডলের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানও অনেকেরই নজর কেড়েছিল। যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী সহ অনেকেই। মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে সেই টুলু মণ্ডলের বিশাল বেআইনি টাকার ভাণ্ডারের ছিটেফোঁটারই হদিশ মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement