একেই বলে 'ঠেলার নাম বাবাজি'! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের টিকিট পাবেন কি না, তাই নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন মালদহের গাজোলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মণ! অভিযোগ, দলেরই একাংশ তাঁকে আর প্রার্থী হিসাবে চান না বলে দাবি তুলে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। গেরুয়া শিবির থেকেই অভিযোগ উঠেছে দলীয় বিধায়ক বিধানসভা এলাকায় কিছুই করেননি। কিন্তু ভোট বড় দায়। এই শেষবেলায় গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ মেটাতে মাথায় ইটের টুকরো ভরা বস্তা তুলে নিলেন বিজেপি বিধায়ক!
সোমবার মালদহের গাজোল ব্লকের মাঝরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতাল সিং গ্রামে মাথায় ইটের টুকরো বইতে দেখা যায় তাঁকে। হাতে কোদাল, বেলচা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে রাস্তা সারাইয়ের কাজে হাত লাগাতেও দেখা গিয়েছে বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মণকে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূলের মালদহ জেলার যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস বলেন, "তাঁকে ৫ বছর দেখা যায়নি। এখন এভাবে মাথায় ইট তুলে নিয়ে প্রচারের আলো পেতে চাইছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য পোজ দিয়ে ছবি তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক। কিন্তু এসব করে লাভ হবে না। গাজোলে এবার তৃণমূলের জয় নিশ্চিত।"
বিজেপি বিধায়কের দাবি, ১২ বছর ধরে রাস্তাটি খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। এতদিন রাস্তা সংস্কারের জন্য পঞ্চায়েত বা ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। অবশেষে বিধায়ক নিজেই দায়িত্ব নেন। ভাঙা ইটের টুকরো ও মাটি কেনার জন্য নিজের পকেট থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন বলে দাবি বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মণের। যদিও তিনি তাঁর বিধায়ক তহবিলের কোনও অর্থ বরাদ্দ করেননি।
জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এ নিয়ে মুখ না খুললেও গাজোলের গেরুয়া শিবিরের নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, তাঁরা দলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন চিন্ময় আর নয়। অন্য কাউকে প্রার্থী করতে হবে।দলের বার্ষিক বনভোজনের অনুষ্ঠানেও দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা গিয়েছে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের। শুধু তাই নয়, তাঁদের অভিযোগ, বিধায়ককে পাঁচ বছরই এলাকার মানুষের কোনও কাজ করতে দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে হাতে কোদাল-বেলচা, মাথায় ইটের টুকরো স্বয়ং বিধায়কের! হতবাক জেলার রাজনৈতিক মহলও।
