স্টাফ রিপোর্টার: ফের কু-সংস্কারের বলি হল দুই আদিবাসী তরুণী। নদিয়ার গাঙনাপুরে ওই দুই তরুণীকে সাপে কামড়ালে চিকিৎসকের কাছে
নিয়ে না গিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যায় পরিবার ও গ্রামবাসীরা। আর তাতেই মৃত্যু হয় ওই দুই তরুণীর। পরে যখন তাঁদের রানাঘাট মহকুমা
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন আর কিছু করার ছিল না। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুই তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
[পুলিশের গুলিতে মৃত্যু গোর্খাল্যান্ড সমর্থকের, ফের অগ্নিগর্ভ পাহাড়]
নদিয়ার গাঙনাপুর থানার হুমনিয়া মধ্যপাড়ায় বাড়ি ওই দুই আদিবাসী তরুণীর। সম্পর্কে এঁরা দুই বোন। মুঙ্গলি মুন্ডা (২০) ও নমিতা মুন্ডা (১৬)।
শুক্রবার রাতে যখন তাঁদের মাটির বাড়িতে শুয়েছিলেন, তখন মশারির মধ্যে একটি সাপ ঢুকে তাঁদের কামড়ায়। প্রথমে গ্রামবাসীরা ওই দুই তরুণীকে
চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাননি। বেশ কিছুক্ষণ ফেলে রাখা হয় তাঁদের। শেষে রানাঘাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুই তরুণীকেই মৃত বলে ঘোষণা করা
হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মুঙ্গলির পাঁচ মাসের পুত্রসন্তান রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পাঁচ মাসের ওই পুত্রসন্তান রাতে যখন শুয়েছিল তখন মায়ের বুকের দুধ খাচ্ছিল। মা’কে সাপে কাটার পর স্বাভাবিকভাবেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই দুই তরুণীর পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, রাতে কোনও এক বোন উঠেছিল। তবে কে উঠেছিল তা তাঁরা বলতে পারেননি। তখনই মশারি তুলে বেরনোয় সাপ ঢুকে পড়ে মশারির ভিতরে। অবশেষে সাপের কামড়ে প্রাণ দিতে হল দুই তরুণীকে। তবে সাপে কামড়ানোর পর আরও দ্রুত চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে গেলে ওই দুই তরুণীকে বাঁচানো যেত বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
