নন্দন দত্ত, সিউড়ি: বগটুই গ্রামকে মডেল গ্রাম করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে বিষয়ে বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিকল্পনার মাঝে রামপুরহাট এক নম্বর ব্লকের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতির পদত্যাগ।
শুক্রবার মালদহ থেকে ট্রেনে চড়ে কলকাতা ফিরছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রামপুরহাট স্টেশনে ট্রেন থামলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা। স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বগটুই গ্রামকে মডেল গ্রাম করার নির্দেশ দেন। সে বিষয়ে তাঁকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন।
[আরও পড়ুন: ‘জেলটাই উপভোগ করুন’, প্রতারক রিয়েল এস্টেট কর্তাকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের]
এদিকে, রামপুরহাট এক নম্বর ব্লকের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি রিয়াজুল হক শুক্রবার তাঁর পদ থেকে আচমকা পদত্যাগ করেন। উল্লেখ্য ওই ব্লকেই বগটুই গ্রাম। সেই গ্রামের প্রতি বিশেষ নজর দিতেই এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অনুগামী রিয়াজুলকে ব্লক সভাপতি করা হয়। রিয়াজুল দায়িত্ব দেওয়ার প্রথমদিন থেকেই এলাকায় আশিসবাবুর বিপরীতে থাকা ব্লক সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মির অপছন্দের তালিকায় ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে একসঙ্গে কর্মসূচি করেছেন সকলেই।
উল্লেখ্য, বগটুই গণহত্যাকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে গ্রামে দখলদারি করতে চাইছে বিজেপি ও তৃণমূল। গত ২১ মার্চ শহিদ দিবস পালনে তা স্পষ্ট। এমনকি গণহত্যার পরে সরকারিভাবে গত সপ্তাহে রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম গ্রামে গিয়ে বগটুইয়ের তিনটি মসজিদে কম্পিউটার দিয়ে আসেন। সেই পরিস্থিতিতে শারিরীক কারণ দেখিয়ে ও ব্যবসার প্রসঙ্গ তুলে শুক্রবার সকালেই পদত্যাগ করেন রিয়াজুল। পদত্যাগ করতেই আসরে নেমে পড়ে বিজেপি। স্বজনহারা পরিবারের সদস্য ও সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া মিহিলাল শেখ দাবি করেন, “রিয়াজুল আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে।” এ বিষয়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। ব্লক সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মি বলেন, “উনি আমার ব্লক কমিটিতে ছিলেন না। তাই এ বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।”
