shono
Advertisement
Mango for Diabetes Patients

আম খেলে হু হু করে বাড়ে ব্লাড সুগার? গবেষণা বলছে, ডাবের জলে লুকিয়ে সমাধান!

যাঁদের ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের খাদ্যতালিকায় এমন পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:55 PM Jun 30, 2026Updated: 09:24 PM Jun 30, 2026

গরম মানেই রসালো, সুস্বাদু আম। কিন্তু ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকেই আম খেতে ভয় পান। কারণ, আমে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।

Advertisement

তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সঠিক উপায়ে আম খেলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে আমের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে ডাবের জল মিশিয়ে খেলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা 'গ্লুকোজ স্পাইক' নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই সাহায্য হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, আমের শাঁসের সঙ্গে ডাবের জল মিশিয়ে খেলে শরীরে ফলের প্রাকৃতিক শর্করা তুলনামূলক ধীরে শোষিত হয়। ফলে খাবার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

পরিমাণ বেশি হলেই বিপদ। ছবি: সংগৃহীত

কেন বাড়ে ব্লাড সুগার?
আস্ত আমের তুলনায় আমের জুস, শেক বা স্মুদিতে ফাইবার বা আঁশের পরিমাণ কমে যায়। ফলে এতে থাকা ফ্রুক্টোজ দ্রুত রক্তে প্রবেশ করে এবং ব্লাড সুগারের মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। বিশেষ করে দুধ, ক্রিম, আইসক্রিম বা অতিরিক্ত চিনি দিয়ে তৈরি ম্যাঙ্গো শেক এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, যদি জুসের বদলে আস্ত আম খাওয়া হয়, তাহলে তাতে পর্যাপ্ত ফাইবার বজায় থাকে, ফলে শরীরে শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হয়।

ডাবের জল কীভাবে সাহায্য করে?
ডাবের জল শুধু শরীরকে ঠান্ডা রাখে না, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন (এনআইএন)-এর তথ্য অনুযায়ী, ডাবের জলে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এই খনিজগুলো ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং কোষে গ্লুকোজের ব্যবহার বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা নেয়।

এছাড়া ডাবের জলে থাকা কিছু প্রাকৃতিক বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান কার্বোহাইড্রেট ভাঙার গতি কিছুটা ধীর করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজ একসঙ্গে না বেড়ে ধীরে ধীরে বাড়ে। একই সঙ্গে এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, যা বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ডায়াবেটিস-ফ্রেন্ডলি ম্যাঙ্গো ড্রিংক বানানোর উপায়
কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে আম খাওয়ার পর ব্লাড সুগারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব-
৫০-৭০ গ্রাম বা ২-৩ টুকরো আম নিন। ১৫০ মিলিলিটারের মতো ডাবের জল এবং এক চা-চামচ ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড মেশান, যাতে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ে। ব্লেন্ড করার পর ছেঁকে ফেলবেন না। আঁশ অক্ষত থাকলে শর্করা ধীরে শোষিত হবে। অতিরিক্ত পাকা আম এবং বোতলজাত বা চিনি মেশানো ডাবের জল এড়িয়ে চলুন।

ডায়াবেটিস-ফ্রেন্ডলি ম্যাঙ্গো ড্রিংক। ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবেটিস থাকলে যা মনে রাখা জরুরি?
ডাবের জল আমের গ্লুকোজ স্পাইক কমাতে সাহায্য করতে পারে ঠিকই, তবে এটি ডায়াবেটিসের চিকিৎসার বিকল্প নয়। তাই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে খাবার আগে ও পরে গ্লুকোমিটার বা কনটিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর (সিজিএম) ব্যবহার করে শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

আম ডায়াবেটিস রোগীদের পাতে পড়তেই পারে। বরং সঠিক পরিমাণে, ফাইবার বা আঁশসমৃদ্ধ অবস্থায় এবং ডাবের জলের মতো স্বাস্থ্যকর উপাদানের সঙ্গে খেলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে যাঁদের ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের খাদ্যতালিকায় এমন পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement