কৃষ্ণকুমার দাস, বোলপুর: কাউন্টডাউন শুরু! হেলিকপ্টারের ঘনঘন ঘড়ঘড় শব্দ জানান দিল, আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার অপেক্ষা। শুক্রবার বিশ্বভারতীর পবিত্র অঙ্গনে পা রাখবেন নরেন্দ্র মোদি, শেখ হাসিনা। থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে বুধবার থেকেই বিশ্বভারতীতে সাজ সাজ রব। অধ্যাপক-পড়ুয়া-কর্মচারী সর্বোপরি শান্তিনিকেতনবাসীর মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। বুধবার বেলা বাড়তেই বিশ্বভারতীর আম্রকুঞ্জ ও বাংলাদেশ ভবনের দখল নিলেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা। আম্রকুঞ্জে সমাবর্তন, বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা শুক্রবার সকালে আসবেন শান্তিনিকেতনে। তার আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শান্তিনিকেতনে চলে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। থাকবেন পর্যটন দপ্তরের বাংলো রাঙাবিতানে। সেখানে গিয়ে সমগ্র অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে আলোকপাত করবেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন। শুক্রবার সকালে নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা ঘণ্টাখানেক থাকবেন কবিগুরুর এই কর্মতীর্থে। হাইপ্রোফাইল দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় এক বিন্দু ফাঁক রাখতে রাজি নন দিল্লি-ঢাকা-নবান্নের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ আধিকারিকরা।
[স্বামীর দ্বিতীয়পক্ষের শিশুসন্তানকে চুরির চেষ্টা, ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মহিলাকে গণপ্রহার]
বস্তুত, এই কারণে অনুষ্ঠানের ৪৮ ঘণ্টা আগে বুধবার সকাল ১০টাতেই বাংলাদেশ ভবনের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন দু’দেশের নিরাপত্তাবিভাগের কর্তারা। ঢাকা থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৩ জনের একটি দল শান্তিনিকেতন এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি কর্তারাও হাজির বোলপুরে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার পর শুরু হল কড়া নজরদারির পালা। সকাল থেকে হেলিকপ্টারের মহড়া চলছে। হেলিকপ্টার উঠছে নামছে। বিশ্বভারতীর বিনয় ভবনের মাঠ থেকে যান্ত্রিক শব্দ ছড়িয়ে পড়ছে শান্তিনিকেতন জুড়ে। যা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকার মানুষজন। অনুষ্ঠানের দিন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর দুটি করে চারটি হেলিকপ্টার নামবে। এককথায় কড়া নিরাপত্তা চাদরে মুড়তে চলেছে গোটা এলাকা। শান্তিনিকেতনে পৌঁছে লাগোয়া রবীন্দ্র ভবন চত্বরের উদয়ন গৃহে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবেন শেখ হাসিনা। এদিন বেলায় সেখানে গিয়ে যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোয়াজ্জেম আলি। রাষ্ট্রদূতের কাকা হলেন সৈয়দ মুজতবা আলি। রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমার কাকা ও পরিবারের সঙ্গে শান্তিনিকেতনের সম্পর্ক অনেকদিনের। এখানে আসতে পেরে গর্ববোধ হচ্ছে।” সবমিলিয়ে ১২০ জনের টিম আসছে বাংলাদেশ থেকে। ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনার প্রতিনিধি দলের বেশ কয়েকজন অফিসার পৌঁছে গিয়েছেন শান্তিনিকেতনে।সঙ্গে আছেন ঢাকার সাংবাদিকরা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ থেকে কবি-সাহিত্যিকদের একটি প্রতিনিধি দলও আসছে।
নরেন্দ্র মোদি, শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একসঙ্গে তিনজনকে বিশ্বভারতীর বিশ্বঅঙ্গনে পাওয়া যাবে, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তা নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেই অর্থে কোনও সুযোগ না থাকায় মনখারাপ থেকেই যাচ্ছে ছাত্রীছাত্রীদের মধ্যে। আচার্য হিসাবে ইন্দিরা গান্ধী বা রাজীব গান্ধী যখন এসেছিলেন, তখন সামনাসামনি বসে আলাপচারিতায় মেতেছিলেন বিশ্বভারতীর আশ্রমিক, পড়ুয়ারা। ইন্দিরা তনয় রাজীবকে নিয়ে নানা প্রশ্নোত্তরে ডুবে গিয়েছিল শান্তিনিকেতন। খালি গলায় তাঁকে গানও শুনিয়েছিলেন সংগীত ভবনের ছাত্রছাত্রীরা। সেই স্মৃতি এখনও শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক ও শিক্ষকদের মনে উজ্জ্বল। কিন্তু এবার নিরাপত্তা ও সময়ের অভাবে আচার্য-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পড়ুয়াদের সরাসরি কোনও আলাপচারিতার সুযোগ থাকছে না। রবি ঠাকুরের উন্মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে পাঁচ বছর পর সমাবর্তন হলেও আচার্যর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা যাবে। তবে মোদি ও হাসিনাকে গান শোনানোর জন্য তৈরি সংগীত ভবনের ছাত্রছাত্রীরা। বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনে গাওয়া হবে, আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে…..। যাঁরা গান গাইবেন তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরাই বেশি। এছাড়াও দু’দেশের জাতীয় সংগীত, উপনিষদের বেদমন্ত্র, শান্তিনিকেতনের আশ্রম সংগীত পরিবেশিত হবে অনুষ্ঠানে। সংগীত বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনা ও পরিচালনাতেই চলছে শেষ মুহূর্তের রিহার্সাল। দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর সামনে গান গাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা উৎফুল্ল।
[জমি বিবাদের জের, মায়ের সামনেই যুবককে কুপিয়ে মারল দুই দাদা]
The post মোদি-হাসিনা-মমতার আগমন ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে বিশ্বভারতীতে appeared first on Sangbad Pratidin.
