এসআইআর আবহের মধ্যেই সিএএ-তে আবেদন করেছিলেন। এসআইআর মনে হয় ধরিয়েছিল। অবশেষে বাড়িতে এল চিঠি। ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বাংলায় আসা পাঁচজন পেলেন ভারতীয় নাগরিকত্ব। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের দুই পরিবারের পাঁচ সদস্য নাগরিক হলেন বলে খবর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দপ্তর থেকে ওই চিঠি পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন তাঁরা।
সম্প্রতি কালেখাঁতলা ১ পঞ্চায়েতের দক্ষিণ ফলেয়া এলাকার ২ পরিবার সিএএ-তে আবেদন করেছিলেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ থেকে এপারে এসেছিলেন মা সরস্বতী মল্লিক ও তাঁর দুই পুত্র দুলাল মল্লিক, অরবিন্দ মল্লিক। বাংলাদেশে তাঁদের বাড়ি ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানা এলাকায়। অস্থির বাংলাদেশে ধর্মীয় আঘাতের কারণে ভয়ে শেষপর্যন্ত তাঁরা থাকতে না পেরে এপারে এসে পূর্বস্থলিতে থাকতে শুরু করেন। এর মধ্যেই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আবহ দেখা যায়।
তাহলে কি এদেশেও থাকা মুশকিল হবে? সেই আতঙ্ক চেপে বসেছিল মা ও ছেলেদের। শেষপর্যন্ত তারা সিএএ-তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। চার মাস পরেই তাঁরা এদেশের নাগরিকত্ব পেলেন বলে দিল্লি থেকে ইমেল মারফত চিঠি এল। মার্চের শুরুতেই ওই ইমেল এসেছে বলে খবর। ভারতের নাগরিক হতে পেরে খুশি তাঁরা। অন্যদিকে পূর্ব ফলেয়ার বাবা কৃষ্ণকান্ত হালদার, ছেলে কৃত্তিবাস হালদারও নাগরিকত্বের চিঠি পেয়েছেন বলে খবর।
জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ থেকে তাঁরা এদেশে এসেছিলেন। পূর্বস্থলীতে থাকতে শুরু করেন। ইতিমধ্যেই এদেশের পরিচয়পত্র হাতে পেয়েছেন তাঁরা। ২০২৫ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর মাসে তাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন করেছিলেন। শেষপর্যন্ত চলতি মাসের ৪ তারিখ তাঁরাও নাগরিকত্বের চিঠি পেলেন। কিছুদিনের মধ্যে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট তাঁরা হাতে পেয়ে যাবেন বলে খবর।
এলাকার বিজেপি নেতা বেচারাম দাস বলেন, "আমরা এই এলাকার প্রায় দেড় হাজার পরিবারকে সিএএ-তে আবেদন করিয়েছি। আর কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সবাই নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন।"
