মাধ্যমিকের জীবন বিজ্ঞানের পরীক্ষা ছিল আজ, বুধবার। পরীক্ষা কেন্দ্রে বন্দুক নিয়ে হাজির পরীক্ষার্থী! স্কুলে ঢোকার আগে ব্যাগ চেক করার সময়ই ওই বন্দুক দেখতে পাওয়া যায়! রীতিমতো আতঙ্ক ছড়ায় স্কুলের শিক্ষক-সহ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। হইচই ছড়িয়ে পড়ে আশপাশেও। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। উদ্ধার হল ওই বন্দুকও। জানা গিয়েছে, বন্দুক হাতের আঙুলের ফাঁকে ঘোরাতে ঘোরাতেই রাস্তা দিয়ে স্কুলে গিয়েছিল ওই ছাত্র। তার সঙ্গে আরও দুই বন্ধু ছিল বলে খবর।
জানা গিয়েছে, বর্ধমান উদয়পল্লি শিক্ষা নিতেকনের সিট পড়েছে রামকৃষ্ণ স্কুলের। রামকৃষ্ণ স্কুলের ওই ছাত্র অন্যান্য দিনের মতো এদিনও পরীক্ষা দিতে পৌঁছেছিল। নির্দিষ্ট সময় পরীক্ষার্থীদের ব্যাগপত্র চেক করে স্কুলের ভিতর ঢোকানো শুরু হয়। ওই ছাত্রের ব্যাগ পরীক্ষা করতে গিয়েই চোখ ছানাবড়া শিক্ষকদের। অ্যাডমিট কার্ড ও পরীক্ষার অন্যান্য সরঞ্জামের সঙ্গে ব্যাগের মধ্যে রয়েছে একটি বন্দুকও! চমকে ওঠেন শিক্ষকরা। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে ছাত্র বন্দুক নিয়ে স্কুলে হাজির? রীতিমতো আতঙ্ক ছড়ায় স্কুলচত্বরে। পরীক্ষা দিতে আসা অন্যান্য ছাত্রদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল।
তবে বন্দুক পাওয়ার পরও খুব একটা ব্যবহারে বদল আসেনি ওই ছাত্রের। ওই পরীক্ষার্থীকে পাকড়াও করা হয়। খবর দেওয়া হয় বর্ধমান থানায়। পুলিশ গিয়ে ওই বন্দুক উদ্ধার করে। তবে তখনও চমকের অনেক কিছুই বাকি। কারণ, এতক্ষণ ধরে যেটিকে আসল বলে মনে করা হয়েছিল, সেটি আদপে নকল। নকল একটি বন্দুক ব্যাগে নিয়ে হাজির হয়েছিল ওই ছাত্র। আরও জানা যায় সেটি আসলে বন্দুকের মতো দেখতে গ্যাস লাইটার! কিন্তু কেন এমন কাজ করল ওই ছাত্র? নিছক মজা করা নাকি প্রতিহিংসার কারণে এমন কাজ? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
এত কাণ্ডের পরেও ওই ছাত্রকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলের পরীক্ষাও শুরু হয়। অন্যান্য ছাত্ররাও নিরাপদেই পরীক্ষা দিয়েছে। নতুন করে কোনও সমস্যা হয়নি? ওই ছাত্রের বাড়িতেও ঘটনার কথা জানানো হয়েছে বলে খবর। উদয়পল্লি শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক রবিকিরণ মুখোপাধ্যায় বলেন, "বিষয়টি নজরে আসতেই পরীক্ষা কেন্দ্রে কর্মরত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তারাই পরীক্ষা করে দেখেন এটি বন্দুক নয়। একটি গ্যাস লাইটার জাতীয় জিনিস। বন্দুকের আকারের গ্যাস লাইটার দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। পরে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।" তিনি আরও বলেন, "আগের পরীক্ষার দিনগুলিতে ওই পরীক্ষার্থীর আচরণ স্বাভাবিক ছিল। এদিন পরীক্ষার শেষ দিন নিছকই মজার ছলে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।"
