দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: রাজ্যজুড়ে প্রথম বর্ষে ছাত্র ভরতিতে চূড়ান্ত দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। বিভিন্ন কলেজে ভরতির জন্য পড়ুয়াদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়া হচ্ছে। শহর হোক কিংবা শহরতলী, এমনকী জেলাতেও ছবিটা একই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই। খোদ মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তাতেও পরিস্থিতি বদল ঘটেনি। বরং যত দিন যাচ্ছে, ততই ভরতিতে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগের বহর বাড়ছে। পরিস্থিতি এমনই জায়গায় পৌঁছেছে যে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতির নিয়মই পালটে ফেলতে হয়েছে উচ্চ শিক্ষাদপ্তরকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ছবিটা যে বদলায়নি, তা বোঝা গেল হুগলির হরিপালের এই ঘটনায়।
[এসআই সেজে সোনারপুরের স্কুলে সারপ্রাইজ ভিজিট, পুলিশের জালে ছদ্মবেশী]
কদিন আগেই হুগলির উত্তরপাড়া প্যারীমোহন কলেজে ছাত্র ভরতিতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।সঞ্জু সিং এবং শুভ অধিকারী নামের দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এখনও তৃণমূল-বিজেপি টানাপোড়েন চলছেই। এর মধ্যে হুগলির হরিপালে একই অভিযোগ উঠল। অভিযুক্ত হরিপালের বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালের ছাত্র অপূর্ব দাস। অভিযোগ, এক ছাত্রীকে স্থানীয় সিঙ্গুর ডিগ্রি কলেজে ভরতি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করে অপূর্ব। বেআইনি দাবি শুনেই অভিযোগ দায়ের করেন ওই ছাত্রী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার কলেজ চত্বর থেকেই অপূর্বকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে চন্দননগর আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
[টাকার জন্য প্রেমিকা ও তাঁর স্বামীর ব্ল্যাকমেল, বনগাঁয় আত্মঘাতী যুবক]
কলেজে কলেজে ভরতি প্রক্রিয়ায় তোলাবাজি ও টাকার বিনিময়ে ভরতি করানোর অভিযোগে বর্তমানে জর্জরিত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি৷ যার ফলে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারও হয়েছে অনেকে৷ ভেঙে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু কলেজের ছাত্র সংসদের ইউনিটও৷ এমনকী বরখাস্ত হতে হয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভানেত্রী জয়া দত্তকেও। তবু, কিছুতেই ভরতির নামে তোলাবাজিতে লাগাম টানা যাচ্ছে না। যদিও, অপূর্বর রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি। তবে, কলকাতার পাশাপাশি হুগলি জেলাতেও যে ভরতি-চক্রের রমরমা চলছে তাতে অস্বস্তি বাড়ছে শাসকদলেরই।
The post ফের কলেজে ভরতিতে তোলাবাজির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ‘ছাত্রনেতা’ appeared first on Sangbad Pratidin.
