আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে (RG Kar Case) বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে সিবিআইয়ের ভূমিকা। তদন্ত নিয়ে বহুবার সরব হয়েছেন অভয়ার বাবা-মা। এই প্রেক্ষাপটে এদিন কার্যত কলকাতা পুলিশের তদন্তকে মান্যতা দিয়ে ফের একবার সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, সিবিআই ডিরেক্টর তাঁদের ভয় দেখিয়েছিলেন বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ অভয়ার মা-বাবার। তাঁরা বলেন,'' কলকাতা পুলিশ যতটুকু করেছিল সিবিআই তাও করেনি। বেশি প্রশ্ন করলে সিবিআই ডিরেক্টর আমাদের ভয় দেখান।'' একইসঙ্গে এদিন দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়েও সরব হয়েছে অভয়ার পরিবার।
আজ সোমবার অভয়ার ৩৩ তম জন্মদিন। তা মাথায় রেখেই এদিন বারাসতের হৃদয়পুরে একটি ফেসবুক গ্রুপের তরফে অভয়ার স্মৃতিতে গোলাপ চারা বিতরণ হয়। সেখানেই উপস্থিত হয়ে অভয়ার মা বলেন, "মেয়ের জন্মদিনে আমাদের আবারও ন্যায় বিচার পাওয়ার অঙ্গীকার নেওয়ার দিন। এখনও সবকিছু আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police) যেটা করেছিল, সিবিআই সেটাতেই সিলমোহর দিয়েছে। বাকি কোনও তদন্ত করেনি। এই যে সিবিআইকে করতে দেওয়া হল না তার পিছনে অদৃশ্য হাত রয়েছে।"
এই প্রসঙ্গ টেনে বাবার সংযোজন, "কোন প্রশাসনের উপর আমাদের আস্থা নেই। আর সিবিআই তো সবথেকে খারাপ। কলকাতা পুলিশ যতটুকু করেছিল সিবিআই তাও করেনি। দিল্লিতে সিবিআই অফিসে গেলে বারবার বোঝানোর চেষ্টা হয় সঞ্জয় একা দোষী। এর বেশি প্রশ্ন করলে সিবিআই ডিরেক্টর আমাদের ভয় দেখান। বলেন মামলা ছেড়ে দেবো।" তবে এহেন হুঁশিয়ারির পরেও তাঁরা ভয় পাননি বলেই মন্তব্য করেন অভয়ার বাবা। তিনি বলেন, ''সিবিআই ডিরেক্টরের হুমকিতে আমরা ভয় পাইনি। বারবার বলেছি মামলা ছাড়লে আদালতে গিয়ে জানান। আদালত বুঝবে কারা তদন্ত করবে।''
এই প্রসঙ্গ টেনে বাবার সংযোজন, "কোন প্রশাসনের উপর আমাদের আস্থা নেই। আর সিবিআই তো সবথেকে খারাপ। কলকাতা পুলিশ যতটুকু করেছিলে সিবিআই তাও করেনি। দিল্লিতে সিবিআই অফিসে গেলে বারবার বোঝানোর চেষ্টা হয় সঞ্জয় একা দোষী। এর বেশি প্রশ্ন করলে সিবিআই ডিরেক্টর আমাদের ভয় দেখান। বলেন মামলা ছেড়ে দেবো।"
শুধু তাই নয়, এদিনও দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়েও ফের মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, "আমাদের বলতে বাধা নেই, কী কারণে তৎপর হয়ে তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের চিফ জাস্টিস ডিওয়াই চন্দ্রচূড় সুয়োমোটো মামলা করেছিলেন? সাতবার শুনানি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তারপর মামলাটিকে হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। এই সময় সুপ্রিম কোর্ট কী মনিটরিং করেছে? এর উত্তর আদালত দিতে পারবে না। প্রথমে ভেবেছিলাম চাইলেই হয়ত বিচার পাওয়া যাবে। এখন বুঝি এদেশের লড়াই করে বিচার পেতে হবে।"
বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগেই আর জি কর মামলার (RG Kar Case) তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজার পদোন্নতি নিয়ে সরব হন অভয়ার বাবা-মা। সম্প্রতি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি হয়েছে সীমার। যদিও আর জি কর মামলার তদন্তভার তাঁর হাতেই থাকছে। আর এই পদোন্নতির খবর পেয়ে অভয়ার মা জানান, সীমা পাহুজা মোটেও ভালোভাবে তদন্ত করেননি। তদন্ত এতটাই গাফিলতি করেছেন যে আসল সত্য এখনও সামনে আসেনি। তদন্তকারী আধিকারিক খাতায় কলমে হলেও, তিনি এই মামলার তদন্ত নিজে করেননি বলেও বিস্ফোরক দাবি করেন নির্যাতিতার মা। এমনকী সীমার বিরুদ্ধে মামলা করারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
