বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election) আর মাস দুই বাকি। ইতিমধ্যে দামামা বেজে গিয়েছে। সাংগঠনিক স্তরে প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। রাজ্যজুড়ে ভোটপ্রচারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী নিজে এতদিনের সরকারি কাজের খতিয়ান নিয়ে 'উন্নয়নের পাঁচালি' তৈরি করে দিয়েছেন। তা নিয়ে নিজেদের এলাকায় প্রচার সারছেন জনপ্রতিনিধিরা। তেমনই এক প্রচারে গিয়ে আক্ষেপের কথা শোনালেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা (Chandranath Sinha)। বললেন, ''ভোটে হারাতে হলে আগে থেকে বলে দেবেন, এবার ভোটে হারাব। তাতে কোনও ক্ষতি নেই। যদি ভাবেন দলকেও হারাবেন, তাও করুন। বলে করুন, না বলে করবেন না। বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না।''
সোমবার বোলপুর শহর মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ তৃণমূল সরকারের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মহিলাকে তাঁদের হাতে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ বই তুলে দেওয়া হয়, যেখানে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। বইটি খুব মনযোগ দিয়ে দেখেন তাঁরা। এরপরই চন্দ্রনাথ সিনহা সকলের উদ্দেশে বলেন, ''দল কিংবা আমাকে পছন্দ না করতে পারেন। ভোটে হারাতে হলে আগে থেকে বলে দেবেন, এবার ভোটে হারাব। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। আপনারা বলে যাবেন, কোনও চিন্তা নেই। তারপর দেখা যাবে, ওয়ার্ডগুলিতে কোনওক্রমে জিতছে তৃণমূল, সেটা ঠিক নয়। আমি সবাইকে বলছি, ওয়ার্ডগুলোয় যথেষ্ট লিড বাড়িয়ে জিততে হবে।''
চন্দ্রনাথ সিনহা রীতিমতো আক্ষেপের সুরে বলেন, ''আমরা নিজেদের ওয়ার্ডে হেরে যাই। আমি এবং কেষ্টদা (অনুব্রত মণ্ডল)। তারপর আমাদের কলকাতার মিটিংয়ে কথা শুনতে হয়। সবাই ব্যঙ্গ করে বলে নিজের ওয়ার্ডে জিততে পারে না। আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই - একথা বললে শুনতে হয়, আগে নিজের ওয়ার্ডে জিতে আসুন। আমাদের খারাপ লাগে। তাই আপনাদের বলছি, আমাদের পছন্দ না হলে বলে দিন, ভোটে হারাব, কিন্তু না বলে হারাবেন না।''
চন্দ্রনাথ সিনহা রীতিমতো আক্ষেপের সুরে বলেন, ''আমরা নিজেদের ওয়ার্ডে হেরে যাই। আমি এবং কেষ্টদা (অনুব্রত মণ্ডল)। তারপর আমাদের কলকাতার মিটিংয়ে কথা শুনতে হয়। সবাই ব্যঙ্গ করে বলে নিজের ওয়ার্ডে জিততে পারে না। আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই - একথা বললে শুনতে হয়, আগে নিজের ওয়ার্ডে জিতে আসুন। আমাদের খারাপ লাগে। তাই আপনাদের বলছি, আমাদের পছন্দ না হলে বলে দিন, ভোটে হারাব, কিন্তু না বলে হারাবেন না।''
গত বিধানসভা, লোকসভা ভোটে সামগ্রিকভাবে বোলপুরের ফলাফল ভালো হলেও দেখা গিয়েছে, ওয়ার্ডগুলিতে ২০, ২৫ বা ৫০ ভোটের ব্যবধানে বিরোধীদের হারিয়েছে তৃণমূল। নিজের ওয়ার্ডে পরাজিত হয়েছেন খোদ মন্ত্রী। এমন ফলাফলের নেপথ্যে অন্তর্ঘাত রয়েছে বলেই মনে করছেন চন্দ্রনাথ সিনহা। আর তাই সম্ভবত তাঁর গলায় 'বিশ্বাসঘাতকতা'র কথা শোনা গেল।
