shono
Advertisement
Darjeeling

অপরিকল্পিত ভাবে বহুতল নির্মাণ থেকে সবুজ ধ্বংসের জের! বিপর্যয়ে নেপালের পথেই দার্জিলিং?

সম্প্রতি এক রাতে বারোবার ভূমিকম্প হয় সিকিমে। যার আঁচ দার্জিলিং পাহাড়েও পৌঁছয়। আতঙ্কে বাইরে চলে আসেন বহু মানুষ।
Published By: Kousik SinhaPosted: 09:56 PM Feb 09, 2026Updated: 09:56 PM Feb 09, 2026

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালের পথেই কি দার্জিলিং পাহাড়! সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্থার চালানো গবেষণায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যা রীতিমতো বিভিন্নমহলে আশঙ্কা তৈরি করেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি এবং ইউনাইটেড স্টেট জিওলজিকাল সার্ভের গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক দশকে দার্জিলিং-কালিম্পং পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় চারশোর বেশি ভূমিকম্প হয়েছে। বছরে গড়ে ৪৩ এবং মাসে ৩ বার এখানকার মাটি কেঁপেছে। কিন্তু বেশিরভাগ ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ৪-এর কম থাকায় তেমন গুরুত্ব পায়নি। তবে ভূমিকম্প ভূমিধসের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় শৈল শহরের বিপদ বাড়ছে। গবেষকদের মতে প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ বছরের ব্যবধানে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের কবলে পড়ছে দার্জিলিং পাহাড়। তাই শঙ্কা থেকেই গিয়েছে তাহলে আগামিদিনে এখানেও নেপালের মতো পরিণতি দেখতে হবে! 

Advertisement

সম্প্রতি এক রাতে বারোবার ভূমিকম্প হয় সিকিমে। যার আঁচ দার্জিলিং পাহাড়েও পৌঁছয়। আতঙ্কে বাইরে চলে আসেন বহু মানুষ। তথ্য বলছে, এখানে অতীতে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে। গবেষকেরা মনে করছেন, কয়েক দশকে অপরিকল্পিত বহুতল নির্মাণ, রাস্তা তৈরি,  নিকাশি ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, যথেচ্ছ প্লাস্টিকের ব্যবহার এবং সবুজ ধ্বংসের জেরে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পাহাড়-সহ উত্তরের সমতলের জেলাগুলিও। ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালের মতো ভয়াবহ ভূমিকম্প যে এখানেও হতে পারে সেই ইঙ্গিত ইতিমধ্যে দিয়েছে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস)। সংস্থার সমীক্ষায় প্রকাশিত দেশের নতুন আপডেট সিসমিক জোনেশন ম্যাপে দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং সিকিমের সমস্ত জেলা-সহ পুরো হিমালয় অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স-এ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯৬২ সালে প্রথম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা নিয়ে ম্যাপিং করেছিল বিআইএস। মোট পাঁচটি বিভাগে ওই সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই সময় দার্জিলিং থেকে সিকিম সিসমিক জোন ফোর-এ ছিল। অর্থাৎ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের ২৮ নভেম্বর বিআইএস মোট ছয়টি ভাগে ওই সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে দেখা যাচ্ছে, হিমালয় ও সংলগ্ন এলাকার পুরোটাই বিপজ্জনক। অর্থাৎ সিসমিক জোন সিক্সে-এ দাঁড়িয়ে আছে। ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালে যে বিধ্বংসী ভূমিকম্প হয় রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিলো ৭.৬। ওই বিপর্যয়ে ৯ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ যায়, জখম হয় ২২ হাজারের বেশি। সাড়ে ৭ লক্ষ বাড়ি মাটিতে মিশে যায়। তথ্য বলছে, দার্জিলিং পাহাড়ে নেপালের চেয়েও তীব্র ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে। ১৯০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি যে ভূমিকম্প এখানে হয়েছিল রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিলো ৮। গত বছরের ৭ জানুয়ারি রিখটার স্কেলে ৭.১ মাত্রায় ভূমিকম্প হয়েছে এখানে। গবেষণার তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দার্জিলিং পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর ভূমিকম্প হয়েছে। ওই বছর ১৭৮টি ভূমিকম্প শনাক্ত করা হয়। বেশিরভাগ রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিলো ৪। সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৭.১।

চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ তথা ভূ-গবেষক মধুসূদন কর্মকার বলেন, "গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং পাহাড়ে প্রতি বছর গড়ে ২৩টি ভূমিকম্প হয়। প্রায় প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ বছর অন্তর ভয়াবহ ভূমিকম্প ঘটে।" তিনি জানান, ভূমিকম্প ভূমিধসের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় শৈল শহরের বিপদ বেড়েছে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, আশির দশক থেকে ধস দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে নিয়মিত বাৎসরিক ঘটনা হয়েছে। এর আগে ধসের ঘটনা ঘটেনি তেমন নয়। কিন্তু এখনকার মতো প্রতিবছর একাধিক নয়। গবেষকরা মনে করছেন এর অন্যতম প্রধান কারণ, ভারতীয় প্লেট ইউরেশিয়ান প্লেটের নীচে চলে যাওয়ায় প্রায়ই ছোটখাটো ভূমিকম্প। তবে শুধু দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম নয়, রিখটার স্কেলে ৬-এর উপরে ভূমিকম্প হলে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি সহ উত্তরের প্রতিটি শহর-গ্রাম বিধ্বস্ত হবে। কারণ, অপরিকল্পিত নির্মাণ সর্বত্র চলছে। বহুতলে ভরেছে প্রতিটি শহর। গবেষকদের মতে এটাই ভূমিকম্পের সময় 'ডোমিনো প্রভাব' সৃষ্টি করতে পারে। স্বভাবতই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বাড়বে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement