সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই বাংলাজুড়ে 'পরিবর্তন যাত্রা' শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্যের প্রত্যেক বিধানসভাতেই এই কর্মসূচি করা হচ্ছে। সেই মতো আজ শনিবার ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা কর্মসূচি ছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। আর সেই কর্মসূচি ঘিরেই চরম বিশৃঙ্খলা। আর এই ঘটনায় রীতিমতো মেজাজ হারান মিঠুন। মাত্র ৮ মিনিটেই বক্তব্য শেষ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ওই সভায় আয়োজকের বিরুদ্ধে দলেরই এক মহিলা কর্মীর গায়ে হাত তোলার অভিযোগও সামনে আসছে।
এদিন দুপুরে বিষ্ণুপুরের আমতলা থেকে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা হয়। পরিবর্তন যাত্রার রথ মহেশতলায় পৌঁছায়। সেখানে বাটানগরে এক সভায় বক্তব্য রাখেন মিঠুন চক্রবর্তী, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। আর সেই সভাতেই চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বিজেপি কর্মীদের এহেন বিশৃঙ্খলা দেখে মাত্র আট মিনিটেই বক্তব্য শেষ করেন মিঠুন চক্রবর্তী। রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে শুধ বাংলায় পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে পরিবর্তন যাত্রাকে সফল করার কথা বলেন। বাকি সময় মজা করেই কাটিয়ে দেন তিনি। বলেন, ''আমি জানি, আমাকে দেখতে খুব সুন্দর। হ্যাঁ, হ্যাঁ, ছবি তুলুন।'' এমনকী বিজেপি কর্মীদের অনুরোধে চশমাও খোলেন। আর তাঁর ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
এসবের মাঝেই ওই বিশৃঙ্খলায় এক তরুণী বিজেপি কর্মী হঠাৎ করেই সভার আয়োজকদের একজন অসিত বাগের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তরুণী ওই বিজেপি কর্মীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন ওই আয়োজক। তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। অবস্থা বেগতিক বুঝে উপস্থিত অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীরা মহিলাকে কোনওরকমে শান্ত করেন। এই প্রসঙ্গে আয়োজক অসিত বাগ বলেন, ''বিষয়টি তেমন কিছুই নয়। সভামঞ্চ ছোট হওয়ায় অনেকে মঞ্চে উঠে পড়েছিলেন। সে কারণেই কয়েকজনকে নেমে যেতে বলা হয়েছিল। আর তাই নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত।'' তবে ওই মহিলা বিজেপি কর্মীর গায়ে হাত তোলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অসিত বাগ।
বিশৃঙ্খলায় এক তরুণী বিজেপি কর্মী হঠাৎ করেই সভার আয়োজকদের একজন অসিত বাগের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তরুণী ওই বিজেপি কর্মীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় তাঁর গায়ে হাত তুলেছেন ওই আয়োজক। তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। অবস্থা বেগতিক বুঝে উপস্থিত অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীরা মহিলাকে কোনওরকমে শান্ত করেন।
এদিকে বিজেপির এই সভা শুরুর অনেক আগেই তৃণমূল এলাকা জুড়ে 'বয়কট বিজেপি' পোস্টার, ফ্লেক্স ওই এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন জায়গায় চলে বিজেপি বিরোধী স্লোগান। বিজেপির অভিযোগ, এদিন চড়িয়াল সহ কয়েকটি জায়গায় তৃণমূল ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। সভা শুরুর বেশ কিছুক্ষণ আগেই সভাস্থলে থাকা কয়েকটি চেয়ার ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও বিজেপির অভিযোগ।
এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রদেশ যুব মোর্চার সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ, প্রদেশ মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র ও ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী সোমা ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
