shono
Advertisement
BJP

বিজেপিতে পদ পাইয়ে দিতে ৯১ লক্ষ টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নেতা, চাঞ্চল্য পাঁশকুড়ায়

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ পাঁশকুড়ার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে দলে পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে দলীয় কর্মীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল। পাঁশকুড়ার এই নেতা বিজেপির রাজ্য সম্পাদক পদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
Published By: Suhrid DasPosted: 02:50 PM Feb 07, 2026Updated: 02:52 PM Feb 07, 2026

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ পাঁশকুড়ার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে দলে পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে দলীয় কর্মীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল। পাঁশকুড়ার এই নেতা বিজেপির রাজ্য সম্পাদক পদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ভোটের মুখে বিজেপি নেতার এমন কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, পাঁশকুড়া এলাকার বিজেপির প্রবীণ নেতা নারায়ণ কিঙ্কর মিশ্রকে দলীয় পদ ও ভোটে প্রার্থী করার নামে দলেরই নেতা সিন্টু সেনাপতি কয়েক দফায় প্রায় ৯১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ।

Advertisement

পরে নারায়ণবাবু সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মারধর করার অভিযোগ ওঠে সিন্টু সেনাপতির বিরুদ্ধে। নারায়ণ কিঙ্কর মিশ্রের অভিযোগ, তাঁকে প্রার্থী ও উচ্চপদ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে দফায় দফায় ৯১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে তাঁকে পথে বসিয়েছেন সিন্টু। এমনকী, একটা সময় নারায়ণবাবুকে সল্টলেকে আটকে রেখে তাঁর জমিজমা বিক্রি করিয়ে সিন্টু আর তাঁর দলবল জোর করে টাকা হাতিয়ে নেন বলে নারায়ণ কিঙ্করবাবু অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে চিঠি লিখে জানিয়ে ছিলেন, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তাই পাঁশকুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়ার জন‌্য সিন্টু স্ট্যাম্প পেপারে লিখিত আশ্বাস দিলেও কোনওভাবেই টাকা ফেরত দেননি। টাকা চাইলে নারায়ণবাবুকে মারধর, হেনস্তা এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই নারায়ণ কিঙ্কর মিশ্র এ বিষয়ে তমলুক জেলা আদালতে বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাইকে ওই স্থানীয় নেতার পিছনে শুভেন্দু অধিকারী।

জানা গিয়েছে, ১৯৮৮ সাল থেকে নারায়ণ কিঙ্কর মিশ্র বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। তিনবার জেলা পরিষদের প্রার্থী, ২০১১ ও ২০১৬ সালে পশ্চিম পাঁশকুড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে প্রতিবারই পরাজিত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, নারায়ণবাবুর জমিজমাও বেশ ছিল। তিনি একটি স্কুলে কেরানির চাকরি করতেন। সন্তান না থাকার কারণে সিন্টু সেনাপতিকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। জায়গা বিক্রি করে সিন্টুকে টাকা দিতেন। সেই টাকায় সিন্টু রাজনীতির কাজকর্ম করতেন বলে অভিযোগ। সিন্টু নারায়ণ কিঙ্করবাবুর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জোর করে সমস্ত জায়গা বিক্রি করে টাকা নিয়ে নেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

জানা গিয়েছে, ১৯৮৮ সাল থেকে নারায়ণ কিঙ্কর মিশ্র বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। তিনবার জেলা পরিষদের প্রার্থী, ২০১১ ও ২০১৬ সালে পশ্চিম পাঁশকুড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে প্রতিবারই পরাজিত হয়েছেন।

এমনকী, তাঁর জমিজমা সব বিক্রি হয়ে যাওয়ার পরই সিন্টু নারায়ণ কিঙ্করবাবুর থেকে সরে যান। এমন অবস্থায় সিন্টুর কথামতো সমস্ত জমি-জায়গা বিক্রি করে দেওয়ায় তাঁকে তাঁর বোন ও মেয়েরা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বলে খবর। বৃদ্ধ বয়সে বর্তমানে তিনি অসহায় অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে বিজেপি নেতা সিন্টু সেনাপতি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দাবি, নারায়ণ কিঙ্কর মিশ্রর সঙ্গে দীর্ঘদিন বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। পাঁশকুড়া এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় দেখা হয়। ২০২১ সালে এই নারায়ণ কিঙ্করবাবু তাঁকে নিজের ছেলে বলে দাবি করেছিলেন। আর যেহেতু সামনে ২০২৬ বিধানসভার ভোট, তাই তিনি তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে বদনাম করতে চাইছেন। অন‌্যদিকে, এ বিষয়ে পাঁশকুড়ার তৃণমূল নেতা শেখ সমিরুদ্দিন বলেন, ‘‘বিজেপির গোয়ালঘরে গুঁতোগুঁতিতে তৃণমূলকে টেনে আনা হচ্ছে। এর সঙ্গে শাসকদলের কোনও সম্পর্ক নেই।’’

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement