গত ১৩ মাস ধরে ধারাবাহিক অভিযান, আর তাতেই বড় সাফল্য মিলল পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের। হাওড়ার গ্রামীণ জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১ লক্ষ ০৪ হাজার ৫৪৬ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে। ঘটনায় পুলিশ ৪০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাওড়ার গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সুবিমল পাল বলেন, "এই ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ৩৫৮ টি মোট মামলা রুজু করা হয়েছে।" উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে চোলাই মদ ও উপকরণের পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, "চোলাই মদ উদ্ধার হয়েছে ৭৩ হাজার ৩৮ লিটার, ৩১ হাজার ৫০৮ লিটার অবৈধভাবে মজুত চোলাই মদ নষ্ট করে দেওয়ার পাশাপাশি ফারমেন্টেড ওয়াশ ৭২ হাজার লিটার মোলাসেস বা চিটে গুড় ৭০ হাজার ২৬০ কেজি উদ্ধার করা হয়েছে।" উদ্ধার হওয়া মাদকের বাজার মূল্য সর্বমোট উদ্ধার মূল্য ৫.৯ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হয়েছে সরঞ্জাম।
জেলা পুলিশ সুপার বলেন, "আমাদের লক্ষ্য অবৈধ কার্যকলাপে জিরো টলারেন্স।" এই প্রসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেন, চোলাই মদ পুরোপুরি বন্ধ করতে তাঁদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে সমাজের নিরাপত্তা রক্ষায় তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার আবেদন করা হয়েছে। চোলাই মদের ব্যবসা বন্ধে ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযানে হাওড়া (গ্রামীণ) জেলা পুলিশ নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করেছে বলে হাওড়ার গ্রামীণ পুলিশ জেলার সুপার সুবিমল পালের দাবি। উল্লেখ করা যায়, চোলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও আবাগারি দপ্তর কোথাও পৃথকভাবে আবার কোথাও নিজেদের উদ্যোগে অভিযান চালাচ্ছে। এমনকী হুগলি ও অন্যান্য জায়গা থেকে হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় গাড়ি, ভ্যান ও বাইকে করে যে চোলাই মদ নিয়ে আসা হত বলে অভিযোগ। অভিযান চালিয়ে সেগুলিও বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
জেলা পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের লক্ষ্য অবৈধ কার্যকলাপে জিরো টলারেন্স। এই প্রসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেন, চোলাই মদ পুরোপুরি বন্ধ করতে তাঁদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে।
প্রসঙ্গত, হাওড়াতেই প্রথম পুলিশ ড্রোন ব্যবহার করে চোলাইয়ের ঘাঁটিগুলোর সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নিয়েছিল। কয়েক মাস আগে পুলিশ উলুবেড়িয়ার মদাই, শাখাভাঙা একাধিক জায়গায় ড্রোন উড়িয়ে মদের ঘাঁটিগুলো প্রথমে চিহ্নিত করেছিল। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমেই ভাটির মালিকরা কে, কোথায় লুকিয়ে ছিল সেই বিষয়ক তল্লাশি চালায়। ড্রোনের সাহায্যে কয়েকজনকে পুলিশ খুঁজে পেয়ে গ্রেপ্তার করে এবং মদের উপকরণ উদ্ধার করে। এছাড়া পুলিশ নদীপথেও ব্যাপক নজরদারি শুরু করে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এখান থেকে মদের কাঁচামাল আমদানি বা মদ রপ্তানি হত বলে অভিযোগ। সবই বন্ধ হয়েছে বলে পুলিশের তরফে অভিযোগ।
