সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পর এবার বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ (Barasat Government College)। ভোটপর্ব মিটে কেন্দ্রীয় বাহিনী কলেজ ছাড়তেই একের পর এক বন্ধ ঘরের তালা খুলছে। আর সেই প্রক্রিয়াতেই বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজে মিলল কন্ডোমের প্যাকেট ও মদের বোতল। লাইব্রেরি বিল্ডিংয়ের ছাদ ও সংলগ্ন অংশ থেকে এগুলি উদ্ধার হয়েছে। অন্য কয়েকটি ঘর থেকে মিলেছে মাদকজাত দ্রব্যের প্যাকেট ও সিগারেটের অংশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার চাঞ্চল্য ছড়ায় কলেজে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বারাসত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবিভিপি।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের সময় বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজে ডিসিআরসি ও গণনাকেন্দ্র করা হয়েছিল। হাবড়া, অশোকনগর, দেগঙ্গা ও বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা হয়েছিল সেখানে। ভোটের আগে থেকেই কলেজের একাধিক ভবন ও শ্রেণিকক্ষ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল লাইব্রেরি বিল্ডিং এবং বয়েজ ও গার্লস কমন রুম। কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে যাওয়ার পর ধাপে ধাপে বিভিন্ন ঘর খোলা শুরু হয়। সোমবার লাইব্রেরি বিল্ডিং খোলার সময় তিনতলার ছাদে পাশাপাশি বেঞ্চ পাতা অবস্থায় দেখা যায়। অভিযোগ, সেখানকার শৌচাগার ও বেঞ্চের নীচ থেকে কয়েকটি কন্ডোম ও মদের বোতল উদ্ধার হয়। পাশাপাশি, অন্য কয়েকটি ঘর থেকে মাদকজাত দ্রব্যের প্যাকেট ও সিগারেটের অবশিষ্টাংশও মিলেছে বলে দাবি এবিভিপির।
এবিভিপির সদস্য তথা ভূগোল বিভাগের ছাত্রী মৌমিতা বিশ্বাসের অভিযোগ, এর ফলে কলেজের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। নতুন পড়ুয়াদের কাছেও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এই ঘটনার জন্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিটের সদস্যদেরই দায়ী করেছেন তিনি। কলেজের অধ্যক্ষ শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ভোটের আগে থেকেই কলেজ জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কারণে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক পঠনপাঠ ব্যাহত হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে বিভিন্ন ঘর ও কমন রুম খোলা হচ্ছে। কী কী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারব না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
কয়েকদিন আগেই কলকাতার শিয়ালদহ চত্বরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে কন্ডোম উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। কলেজের মধ্যেই বেডরুমের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এবার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পর বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে কন্ডোম উদ্ধার করা হল।
