রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটেই পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। ওই পাঁচ জেলার মধ্যে সবার প্রথম এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম কলকাতা। অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, এতদিন তো কলকাতাকে আলাদা জেলা বলেই জেনে এসেছেন, তাহলে এই ঘোষণার প্রয়োজন কী?
এদিন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ঘোষণা অনুযায়ী, পাঁচটি নতুন জেলা তৈরি করা হবে। পাঁচটি জেলা হল কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগ। পাশাপাশি কাঁথিতে একটি নতুন পুলিশ জেলা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, ‘প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের’ লক্ষ্যে রাজ্যে নতুন পাঁচটি জেলা গঠন করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এতদিন কি কলকাতা আলাদা জেলা ছিল না? নতুন করে মহানগরকে জেলা ঘোষণার দরকারটা কী ছিল?
রাজ্যে অন্য জেলাগুলিতে আলাদা জেলাশাসক থাকেন। তাঁর নিজস্ব দপ্তর থাকে। প্রশাসনিক কাজের অনেক স্তর থাকে। রাজ্যের তরফে নির্দেশ যায় জেলাশাসকের কাছে, সেখান থেকে মহকুমা হয়ে ব্লকস্তরে যায়, সেই মতো কাজ হয়। আবার সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানও এই বিভিন্ন ধাপে ধাপে হয়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, কলকাতাকে জেলা হিসাবেই ধরা হয় ঠিকই। কিন্তু রাজ্যের আর পাঁচটা জেলার মতো প্রশাসনিক কাঠামো রাজধানীতে নেই। এখানে আলাদা করে কোনও জেলাশাসক নেই। একজন কালেক্টর থাকেন। তিনি মূলত রাজস্ব সংগ্রহ করেন। প্রশাসনিক কাজকর্ম দেখেনে না। রাজধানী হওয়ায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সরাসরি কলকাতায় কাজ করে। তাছাড়া পুরসভার মাধ্যমেও বহু কাজ হয়। ফলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়লে হয় পুরসভায় নয়তো রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হয়। যা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সমস্যার।
রাজ্যে অন্য জেলাগুলিতে আলাদা জেলাশাসক থাকেন। তাঁর নিজস্ব দপ্তর থাকে। প্রশাসনিক কাজের অনেক স্তর থাকে। রাজ্যের তরফে নির্দেশ যায় জেলাশাসকের কাছে, সেখান থেকে মহকুমা হয়ে ব্লকস্তরে যায়, সেই মতো কাজ হয়। আবার সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানও এই বিভিন্ন ধাপে ধাপে হয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, জেলায় যে ভাবে প্রশাসনিক কাজকর্ম চলে, এ বার কলকাতাতেও সেই ভাবেই চলবে। ফলে নাগরিকদের যেমন সুবিধা হবে, তেমনই প্রশাসনের কাজ চালাতেও সুবিধা হবে। তাছাড়া, কলকাতা জেলার পরিধি আগের চেয়ে বাড়ানো হতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন, যদিও সে সংক্রান্ত কোনও রূপরেখা এখনও তৈরি হয়নি।
